লন্ডনে স্থায়ী হতে চান? কম খরচ ও বেশি আয় কীভাবে করবেন, জানুন পুরো বাস্তব চিত্র
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় অনেক সাধারণ মানুষ বিদেশে স্থায়ী হওয়ার কথা ভাবছেন। তাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহর। লন্ডনে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটি, যা নতুন অভিবাসীদের জন্য আকর্ষণীয় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। তবে প্রশ্ন রয়ে যায়, কীভাবে যাবেন লন্ডনে, কত খরচ পড়বে, কোথায় থাকবেন, কী কাজ করবেন এবং আয়–রোজগার কেমন? চ্যানেল এইট্টিনের এই প্রতিবেদনে আজ এসব নিয়েই আলোচনা।
বাংলাদেশ থেকে লন্ডনে যাওয়ার প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হলেও প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও ভিসা। সাধারণত চার ধরনের ভিসা পাওয়া যায়— ট্যুরিস্ট, স্টুডেন্ট, ওয়ার্ক ও ইনভেস্টমেন্ট ভিসা। দীর্ঘমেয়াদে অবস্থান করলে আবেদন করা যায় পার্মানেন্ট রেসিডেন্স বা নাগরিকত্বের জন্যও।
ভিসার খরচে ভিন্নতা রয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসার জন্য প্রায় ৭৬ হাজার টাকা, ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য ২০–৩০ হাজার টাকা এবং ওয়ার্ক ভিসার জন্য ১ লাখ ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। তবে দালাল ছাড়া নিজে আবেদন করলে ব্যয় তুলনামূলক কম হয়।
বিমান ভাড়াই সবচেয়ে বড় খরচ। বাংলাদেশ বিমানসহ আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের সরাসরি লন্ডন ফ্লাইটে একমুখী টিকিট ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। দোহা, দুবাই বা ইস্তাম্বুল হয়ে ট্রানজিট নিলে খরচ ৪০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায় নেমে আসে।
লন্ডনে পৌঁছে সবচেয়ে বড় ব্যয় বাসস্থান। শেয়ারড রুমের মাসিক ভাড়া ৪০০–৬০০ পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৫–৭০ হাজার টাকা)। প্রাইভেট রুম বা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া ৮০০–১২০০ পাউন্ড (প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা)। শেয়ারড হোস্টেল বা হাউস তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল, প্রতি মাসে ৩০০–৫০০ পাউন্ডেই থাকা যায়।
খাবারের খরচও কম নয়। রেস্তোরাঁয় একবার ডিনারের খরচ ১৮০০–৩০০০ টাকা পর্যন্ত। তবে নিজে রান্না করলে মাসে ১৭ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকা খরচেই খাবারের ব্যয় সামলানো যায়।
কাজের সুযোগের দিক থেকে লন্ডন বৈচিত্র্যময়। রেস্টুরেন্ট, ফাস্টফুড, সেলফ সার্ভিস, কুক, ওয়েটার বা ক্যাশিয়ার— এসব কাজে ঘণ্টায় ৮–১২ পাউন্ড আয় সম্ভব। নির্মাণশ্রমিকেরা দিনপ্রতি ৭০–১০০ পাউন্ড আয় করতে পারেন। বিভিন্ন কারখানায় প্যাকেজিং বা মেশিন অপারেটর হিসেবেও ঘণ্টায় ৮–১০ পাউন্ড আয় করা যায়।
সুপারমার্কেট বা স্টোরে সেলস অ্যাসিস্ট্যান্ট, ক্যাশিয়ার, ওয়্যারহাউস কিপিং; এসব খাতে কাজের সুযোগ আরও বেশি। পূর্ণকালীন কর্মীরা সপ্তাহে ৩৫–৪০ ঘণ্টা কাজ করে মাসে প্রায় ১৫০০ থেকে ২২০০ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করতে পারেন। তবে আয়ের তুলনায় লন্ডনের জীবনযাত্রার ব্যয়; বিশেষ করে বাসস্থান ও পরিবহন, অনেক বেশি হওয়ায় সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।
লন্ডনে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে হলে তাই ভিসা, খরচ, বাসস্থান, চাকরি; সবকিছু আগে থেকেই নিশ্চিত করে রাখা প্রয়োজন। না হলে বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই শহরে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।





































