ইইউ নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনের দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মাঠে নেমেছে
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশনের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মাঠে নেমেছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানী ঢাকা থেকে সারাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে তাদের কাজ শুরু হয়।
সরাসরি পর্যবেক্ষণের কার্যক্রম সম্পর্কে শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে মিশনের উপ-প্রধান পর্যবেক্ষক ইন্ডা লাসে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষকরা মিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের পর্যবেক্ষণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নে মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন দীর্ঘমেয়াদি ও দেশব্যাপী পর্যবেক্ষণের জন্য সুসংহত ও সুপ্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি ব্যবহার করে, যা নির্বাচনের ভারসাম্যপূর্ণ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ নিশ্চিত করে। পর্যবেক্ষকরা দুইজনের একটি দল হিসেবে কাজ করবেন এবং ভোটার, নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রার্থী, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিসহ নাগরিক পর্যবেক্ষক ও তরুণ কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তাদের কার্যক্রম শুধু শহরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, গ্রাম ও ছোট শহরেও পরিচালিত হবে।
ইন্ডা লাসে জানান, পর্যবেক্ষকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসমূহ, কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড থেকে আগত। মাঠ পর্যায়ে মোতায়েনের আগে তাদেরকে বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিবেশ, আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের বিষয়ে সম্যক ধারণা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ও প্রধান পর্যবেক্ষক ইভার্স ইজাবস। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রসহ কানাডা, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা যোগ দেবেন। তারা ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফলাফল তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় মিশনে মোট ২০০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োজিত থাকবেন।
ইইউ নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশন আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রাথমিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন সুপারিশমালাসহ কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা হবে এবং উভয় প্রতিবেদন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মিশনটি একটি আচরণবিধির অধীনে পরিচালিত হয়, যা নিরপেক্ষতা ও হস্তক্ষেপবিহীনতার নিশ্চয়তা প্রদান করে।





































