২৯৮ আসনে ১ হাজার ৯৮১ প্রার্থী : আসন্ন নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের জন্য মোট ১,৯৮১ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন পেয়েছেন। বিএনপির প্রার্থীর সংখ্যা ২৮৮, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৫৩, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২২৪, এনসিপি ৩২ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৯। গড়ে প্রতিটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৬ জনের বেশি প্রার্থী।
পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে কিছু আইনি জটিলতার কারণে ভোটগ্রহণ এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। এই দুই আসনে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে ২৫ জানুয়ারি এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারিত হয়েছে ২৬ জানুয়ারি। বাকি ২৯৬টি আসনে ভোটগ্রহণ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকা বিভাগের আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবচেয়ে তীব্র। বিশেষ করে ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১৫, ঢাকা-১৬, গাজীপুর-২ ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনেও ১০ থেকে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কুমিল্লা অঞ্চলেও প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি, তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় এলাকায় প্রার্থীসংখ্যা কম। রাজশাহী ও রংপুরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মাঝারি, খুলনা ও বরিশালেও তুলনামূলকভাবে কম প্রার্থী রয়েছে। সিলেট বিভাগে প্রার্থীর সংখ্যা সর্বনিম্ন, অধিকাংশ আসনে ৪–৬ জনের মধ্যে।
ঢাকা মহানগরীর শহরাঞ্চলে বহু প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, বিপরীতে মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলে প্রার্থীসংখ্যা সীমিত। নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরাঞ্চলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভোট বিভাজনের কারণে অপ্রত্যাশিত ফলের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, যেখানে কম প্রতিদ্বন্দ্বিতা সেখানে ভোটার উপস্থিতি কম থাকতে পারে।
প্রার্থী বরাদ্দের সঙ্গে প্রতীকও বিতরণ করা হয়েছে। দলীয় প্রার্থীরা তাদের দলীয় প্রতীক পেয়েছেন, আর স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১১৯টি নির্ধারিত প্রতীকের মধ্যে বরাদ্দ করা হয়েছে। এর আগে ৫৯টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টি দলের প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মোট ২,৫৮০টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তারা এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অভিযোগও উঠছে। জামায়াতে ইসলামীর এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু কর্মকর্তা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা ইউসুফ আশরাফ বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। বিএনপির মুখপাত্র মাহাদী আমীন বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অপরিহার্য।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও ইসি সাবেক সচিব জেসমিন তুলি মনে করেন, প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার পর নির্বাচন আচরণবিধি বাস্তবায়ন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, কেবল আইন বা নথিতে থাকা যথেষ্ট নয়, রাজনৈতিক দলগুলোকে তা বাস্তবে মেনে চলতে হবে।
সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচন গঠনতন্ত্র ও ন্যায্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য ইসি ও রাজনৈতিক দলগুলোকে কঠোর নজরদারি ও সজাগ থাকা প্রয়োজন।





































