শুক্রবার , ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

চ্যানেল এইটটিন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৪৩, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

চীনা গুপ্তচর মামলার ব্যর্থতায় পুনারাবৃত্তি হতে পারে, ইউকে এমপিদের সতর্কতা 

চীনা গুপ্তচর মামলার ব্যর্থতায় পুনারাবৃত্তি হতে পারে, ইউকে এমপিদের সতর্কতা 
ক্রিস্টোফার বেরি (বামে) এবং ক্রিস্টোফার ক্যাশ (ডান) তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

যুক্তরাজ্যের কয়েকজন এমপি সতর্ক করেছেন যে চীনা গোয়েন্দা সন্দেহে করা একটি মামলায় যে ব্যর্থতা দেখা গেছে, তা ভবিষ্যতেও আবার ঘটতে পারে—যদি বড় ধরনের সংস্কার না আনা হয়।

এক সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলাটি ভেঙে যাওয়ার পেছনে ছিল ‘অগোছালো’ ও ‘বিশৃঙ্খল’ ব্যবস্থাপনা। এ কারণে ক্রিস ক্যাশ ও ক্রিস বেরির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করতে হয়। তারা দু’জনই দাবি করেন, তারা নির্দোষ।

অনেকে অভিযোগ করেছিলেন, মামলাটি ইচ্ছা করেই নষ্ট করা হয়েছে, যাতে চীনের সঙ্গে ব্রিটেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে কমিটি এমন কোনো প্রমাণ পায়নি।

মামলাটি ধসে পড়ে যখন উপ–জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চীনকে ‘শত্রু রাষ্ট্র’ হিসেবে ঘোষণা করতে রাজি হননি। তবে এমপিদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আদালতের জুরির সামনে তোলা যেত।

কমিটি বলেছে, মামলাটি ভেঙে যাওয়ার পেছনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ষড়যন্ত্র নয়, বরং ভুল বোঝাবুঝি, দেরি, দুর্বল সমন্বয় এবং দায়িত্বহীনতা কাজ করেছে। উদাহরণ হিসেবে তারা জানিয়েছে—একজন সাক্ষীর দ্বিতীয় বিবৃতি পেতে আট মাস লেগেছে, যার কোনো ব্যাখ্যা নেই।

সরকার দাবি করে, নতুন জাতীয় নিরাপত্তা আইনের কারণে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলা আর ভেঙে পড়বে না। তবে কমিটি মনে করছে, সরকার যেন এই ব্যর্থতাকে কেবল পুরনো আইনের সমস্যা হিসেবে না দেখায়।

কমিটির চেয়ারম্যান ম্যাট ওয়েস্টার্ন বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতি জটিল হওয়ার কারণে জাতীয় নিরাপত্তা–সম্পর্কিত মামলার সংখ্যা বাড়বে। এসব মামলা ঠিকভাবে পরিচালনা করতে না পারলে জনগণের আস্থা নষ্ট হবে।

প্রতিবেদনে ছয় মাসের মধ্যে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেমন সরকারের আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মধ্যে ভালো সমন্বয়, অভিযোগ গঠনের ৩০ দিনের মধ্যে সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক, এবং সরকারি সাক্ষীরা কী ধরনের তথ্য দেবেন, তা স্পষ্ট করা।

কমিটির মতে, এসব পরিবর্তন করলে ভবিষ্যতের সংবেদনশীল নিরাপত্তা মামলাগুলো আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

সর্বশেষ

জনপ্রিয়