কোভিড ইনকোয়ারি: যুক্তরাজ্য সরকারের অতিরিক্ত ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় নিয়ে সমালোচনা তুঙ্গে
কোভিড–১৯ মহামারি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের ব্যর্থতা, সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতি যাচাই করতে গঠিত পাবলিক ইনকোয়ারির জবাব দিতে গিয়ে সরকার ইতোমধ্যে ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ব্যয় করেছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে বিবিসির অনুসন্ধানে। এটি ইনকোয়ারি পরিচালনার আলাদা ব্যয় ১৯২ মিলিয়ন পাউন্ডের অতিরিক্ত। ফলে মোট ব্যয় পূর্বের ধারণার তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে।
সরকারের এ ব্যয়ের বড় অংশ গেছে আইনি পরামর্শ ও জনবল খাতে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ২৪৮ জনের একটি বড় টিম প্রমাণ ও নথিপত্র প্রস্তুত করতে কাজ করছে।
তবে ইনকোয়ারির ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, সরকার অনেক সময় ‘বাধাসৃষ্টিকারী ও কঠিন আচরণ’ করছে—নথি দিতে দেরি করছে, আবার কিছু তথ্য প্রকাশেও আপত্তি তুলছে।
ক্যাবিনেট অফিস অবশ্য বলছে, তারা পুরোপুরি সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইনকোয়ারির ব্যয়ই ছাড়িয়েছে ১৯২ মিলিয়ন পাউন্ড
২০২২ সালে শুরু হওয়া এই বিশাল ইনকোয়ারির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পেতে আরও দুই বছর লাগবে—২০২৭ সালের আগে তা আসার সম্ভাবনা নেই। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ব্যয় ইতোমধ্যে ১৯২ মিলিয়ন পাউন্ড, যা ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড ছাড়িয়ে যাবে বলেই ধারণা।
ইনকোয়ারির মধ্যে রয়েছে ১০টি আলাদা মডিউল, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি—মহামারি প্রস্তুতি ও সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত সরকার বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে ব্যয় করেছে প্রায় ১০১ মিলিয়ন পাউন্ড। সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে ক্যাবিনেট অফিস, হোম অফিস, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগ, ট্রেজারি এবং ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি।
এই ব্যয়ের মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাক্ষ্য প্রস্তুতির সময় যুক্ত নয়।
ব্যয়ের অর্ধেকের বেশি গেছে বাহিরের আইনজীবী ও আইনি সহায়তা নেওয়ার জন্য।
সরকারের ‘রক্ষণাত্মক মনোভাব’ সমালোচিত
ইনকোয়ারি সূত্রগুলো বলছে, সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় তার রক্ষণাত্মক ও প্রতিরোধমূলক অবস্থানকেই ইঙ্গিত করে।
২০২৩ সালে ইনকোয়ারি ও সরকারের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয় যখন সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা, ডায়েরি ও নোটবই দিতে অস্বীকৃতি জানায়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি হাই কোর্টে গড়ায় এবং সরকার মামলায় হেরে যায়।
ক্যাবিনেট অফিস বলছে, নথিগুলো ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বিবেচিত হওয়ায় আইনগত নীতির ব্যাখ্যা পাওয়ার জন্য তাদের আদালতে যেতে হয়েছিল।
‘এটা একেবারে অপচয়’—ট্যাক্সপেয়ার্স অ্যালায়েন্স
ট্যাক্সপেয়ার্স অ্যালায়েন্সের প্রধান নির্বাহী জন ও’কনেল বলেন, ‘ইনকোয়ারির ব্যয়ের ওপর আরও ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করা সম্পূর্ণ লজ্জাজনক। মোট ব্যয় আগের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি হবে। সরকারকে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে।’
‘ব্যয় সঠিক, তবে প্রক্রিয়া বদলাতে হবে’—কোভিডে শোকাহত পরিবারগুলো
কোভিড–১৯–এ নিহতদের পরিবারিক সংগঠন বলছে, ইনকোয়ারির কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং ভবিষ্যতে সঠিক শিক্ষা নেওয়া গেলে এই ব্যয় বহু গুণে পুষিয়ে যাবে। তবে তারা মনে করে, বর্তমান প্রক্রিয়া অতি জটিল, দীর্ঘ এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিরূপ।
তারা হিলসবোরো আইন পাশের পক্ষে, যা সরকারি দপ্তরগুলোকে ইনকোয়ারিতে তথ্য সরবরাহে আরো বেশি বাধ্য করবে।
ইনকোয়ারি কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
কোভিড ইনকোয়ারির মুখপাত্র বলেছেন, ‘এটি পূর্বের যেকোনো পাবলিক ইনকোয়ারির চেয়ে আলাদা। সমাজের প্রতিটি স্তরকে প্রভাবিত করা মহামারি নিয়ে বিশদ তদন্ত হওয়ায় ব্যয় ও সময়—উভয়ই বেশি লাগবে।’
তারা সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।





































