বাণিজ্যমেলায় বেচাকেনা জমজমাট, সন্তুষ্ট ব্যবসায়ীরা
দিন যতই যাচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা জমে উঠছে। মঙ্গলবার মেলার ১১তম দিনে পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না এক্সিবিউশন সেন্টার দুপুরের পর থেকে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেচাকেনা বেশ ভালো হয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকেই মেলা প্রাঙ্গণে অল্পসংখ্যক ক্রেতা-দর্শনার্থী এসেছে। দুপুরের পর মানুষ লাইন ধরে টিকিট কেটে ভেতরে প্রবেশ করছে। প্রয়োজনীয় পণ্য কিনছেন, কেউবা পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখছেন।
শীতের কারণে আগের কয়েক দিন ভিড় তুলনামূলক কম থাকলেও মঙ্গলবার ছিল ভিন্ন চিত্র। ক্রেতা-দর্শনার্থী বাড়ায় বেচাকেনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্টল মালিক ও কর্মচারীরা।
তুর্কি ফ্যাশনের পরিচালক জায়েদ খন্দকার বলেন, শুরুর দিকে তীব্র শীতের কারণে ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সংখ্যা কম ছিল। তবে কয়েক দিন ধরে অফিস-আদালতে খোলার দিনেও লোকসমাগম হচ্ছে। এতে মেলার পরিবেশ বদলে গেছে। প্রতিটি প্যাভিলিয়নেই দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা আরও বাড়বে।
ইন্ডিয়ান ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোকন জমাদ্দার বলেন, আগের দিনের তুলনায় বেচাকেনা বেড়েছে। মেলার শেষের দিকে বিক্রি আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।
এদিকে, দুপুরের পর থেকে হিমেল শীত উপেক্ষা করে দলে দলে লোকজন মেলাপ্রাঙ্গণে ভিড় করে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা দর্শনার্থীরা বিভিন্ন পণ্যের স্টল ও প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন। ঘরের সাজানো ও আসবাবপত্রসহ পছন্দের জিনিসপত্র ক্রয় করছেন।
বিশেষ করে হোমটেক্স, শীতবস্ত্র, পাকিস্তানি থ্রি-পিস, ইরানি, তুরস্কসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকানে কেনাকাটা করেছেন। বিশাল মেলাপ্রাঙ্গণ ঘুরে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা ক্লান্ত হয়ে ঢুকছেন খাবারের দোকানগুলোতে।
স্টান্ডার্ড লুঙ্গি স্টলের সেলস অফিসার আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোম্পানির প্রচার ও প্রসারের জন্য স্টল নিয়ে আমাদের যেসব নতুন কলেকশন বাজারে এসেছে তা প্রদর্শনের জন্য ডিসপ্লে করে রেখেছি। লুঙ্গির পাশাপাশি স্ট্যান্ডার্ড কোম্পানি গার্মেন্ট সাইটের পণ্য নিয়ে বাজারে এসেছে।
দর্শনার্থীদের মধ্যেও দেখা গেছে আগ্রহ ও উৎসাহ।
পরিবার নিয়ে মেলায় আসা মিলন মিয়া বলেন, মেলায় লোকজনের ভিড় বাড়লেও পরিবেশ ভালো। প্রয়োজনীয় কিছু পণ্য কিনেছি। শেষের দিকে আবার আসার পরিকল্পনা আছে, তখন সাধারণত ছাড় বেশি থাকে।
বাড্ডা এলাকা থেকে আসা দর্শনার্থী শামিম হোসাইন বলেন, দুপুরের দিকে মেলায় ঢুকেই ভিড় দেখে অবাক হয়েছি। সব প্যাভিলিয়নেই মানুষের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তবে বাজারের তুলনায় কিছু পণ্যের দাম বেশি মনে হয়েছে।
এ বিষয়ে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ও বাণিজ্যমেলার পরিচালক তরফদার সোহেল রহমান বলেন, মেলা প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি সন্তোষজনক। ব্যবসায়ীরা যেন নির্বিঘ্নে বেচাকেনা করতে পারেন ও দর্শনার্থীরা নিরাপদে মেলা উপভোগ করতে পারেন, সে জন্য সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।





































