ডিডব্লিউপির নির্দেশনা অনুযায়ী, কারও ভাতা পাওয়ার তারিখ যদি ৪ মে সোমবার হয়ে থাকে, তবে তিনি অর্থ পাবেন তার আগের কর্মদিবস শুক্রবার ১ মে। একইভাবে, ২৫ মে নির্ধারিত পেমেন্ট দেওয়া হবে শুক্রবার ২২ মে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেমেন্টের সঠিক সময় জানতে গ্রাহকদের নিজ নিজ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। সাধারণত এসব ভাতা সরাসরি ব্যাংক, বিল্ডিং সোসাইটি বা ক্রেডিট ইউনিয়নের অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
এই পরিবর্তন ইউনিভার্সাল ক্রেডিট, স্টেট পেনশন, পেনশন ক্রেডিট, চাইল্ড বেনিফিট, ডিজেবিলিটি লিভিং অ্যালাউন্স এবং পার্সোনাল ইন্ডিপেন্ডেন্স পেমেন্টসহ বিভিন্ন সুবিধাভোগীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত পেমেন্টের দিন যদি সপ্তাহান্ত বা ব্যাংক হলিডেতে পড়ে, তাহলে আগের কর্মদিবসেই অর্থ দেওয়া হয়। স্টেট পেনশনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর থাকে। এ পেনশন সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয় এবং এর নির্দিষ্ট দিন নির্ভর করে ন্যাশনাল ইনস্যুরেন্স নম্বরের শেষ দুই সংখ্যার ওপর, ০০ থেকে ১৯ পর্যন্ত সোমবার, ২০ থেকে ৩৯ মঙ্গলবার, ৪০ থেকে ৫৯ বুধবার, ৬০ থেকে ৭৯ বৃহস্পতিবার এবং ৮০ থেকে ৯৯ শুক্রবার।
তবে আগেভাগে অর্থ পাওয়ার ফলে নতুন ধরনের চাপও তৈরি হচ্ছে অনেকের মধ্যে। নির্ধারিত সময়ের আগে টাকা হাতে এলেও তা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারের প্রয়োজন হওয়ায় খরচ ব্যবস্থাপনা কঠিন হয়ে পড়ে। নির্ধারিত সময়ে ভাতা না পেলে ডিডব্লিউপির হেল্পলাইনে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যদিও ব্যাংক হলিডের দিনে এই সেবা বন্ধ থাকে।
এই পরিবর্তন নিয়ে ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। লন্ডনে বসবাসকারী এক বাংলাদেশি অভিভাবক বলেন, মাসের শুরুতে টাকা পাওয়া স্বস্তিদায়ক হলেও পরবর্তী সময় সেই অর্থ দিয়ে চলা কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে বাজার খরচ ও বিভিন্ন বিল পরিশোধের চাপ থাকলে।
অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন, এতে তাদের বাজেট পরিকল্পনায় সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে যারা পুরোপুরি ডিডব্লিউপির সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য আগেভাগে অর্থ পাওয়া মানে খরচের ভারসাম্য ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে যাওয়া।
তবে ইতিবাচক দিকও দেখছেন অনেকে। কিছু প্রবাসী বাংলাদেশি মনে করছেন, ঈদ বা পারিবারিক খরচের আগে হাতে টাকা পাওয়া সুবিধাজনক। এতে জরুরি প্রয়োজন মেটানো সহজ হয়, যদিও পরবর্তী সময়ের জন্য ব্যয় পরিকল্পনা আরও সতর্কভাবে করতে হয়।