যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় একসময় ছিল নির্যাতিত, যুদ্ধাহত, নিপীড়িত ও জীবনসংকটে থাকা মানুষের শেষ ভরসা। কিন্তু এখন সেই ব্যবস্থাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ভয়ংকর এক প্রতারণার বাজার।
অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, কিছু অসাধু দালাল, অননুমোদিত পরামর্শদাতা এবং কথিত আইনসেবাদাতারা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ভুয়া গল্প সাজিয়ে দিচ্ছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের। কেউ বানানো রাজনৈতিক নির্যাতনের গল্প বলছেন, কেউ নিজেকে সমকামী পরিচয় দিচ্ছেন, কেউবা ধর্মত্যাগী সেজে আশ্রয়ের আবেদন করছেন।
লন্ডনের পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারী এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী (ছদ্মনাম রাশেদ) বলেন, তার শিক্ষার্থী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এক ব্যক্তি তাকে বলেন, দেশে ফিরতে হবে না, থাকার ব্যবস্থা করা যাবে।
রাশেদের ভাষ্য, ‘আমাকে তিনটা পথ দেখানো হয়—রাজনীতি, সমকামিতা বা ধর্মত্যাগ। যেটা চাই, সেটার গল্প বানিয়ে দেওয়া হবে।’
তিনি রাজি হননি। তবে তার দাবি, একই প্রস্তাব আরও কয়েকজনকে দেওয়া হয়েছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এ ধরনের কেস তৈরি করে দেওয়ার নামে একজনের কাছ থেকে দেড় হাজার থেকে সাত হাজার পাউন্ড পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। আলাদা টাকায় দেওয়া হচ্ছে সাক্ষাৎকার প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা কাগজ, সমর্থনপত্র, এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কী লিখতে হবে তার নির্দেশনাও।
অভিবাসন–বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পথে স্থায়ী বসবাস কঠিন হয়ে যাওয়ায় অনেকে অ্যাসাইলামকে শর্টকাট হিসেবে দেখছেন। আর সেই সুযোগ নিচ্ছে দালালচক্র।
সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকৃত আশ্রয়প্রার্থীরা। তাদের আবেদনও সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে।