ফাঁস হওয়া ওই ইমেইলে দেখা গেছে, মার্কিন একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরামর্শ দিয়েছেন যে, ইউরোপীয় দেশগুলোর ‘সাম্রাজ্যবাদী অধিকারভুক্ত’ অঞ্চলগুলোর ওপর থেকে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সমর্থন পুনর্বিবেচনা করা উচিত—যার মধ্যে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জও অন্তর্ভুক্ত। ফকল্যান্ড মূলত ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি বিরোধপূর্ণ অঞ্চল। ১৯৮২ সালের যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশদের পূর্ণ সমর্থন দিলেও বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন সেই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
অবাধ্য মিত্রদের শাস্তির তালিকা
ইমেইলটিতে ইরান যুদ্ধে সহায়তা না করা ন্যাটো মিত্রদের জন্য সম্ভাব্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থার একটি তালিকাও দেয়া হয়েছে। এতে যুদ্ধের তীব্র সমালোচনা করায় স্পেনকে ন্যাটো জোট থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে জোটের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো থেকে ‘অসহযোগী দেশগুলোকে’ দূরে রাখার কথা বলা হয়েছে।
ট্যারিফ যুদ্ধের হুঁশিয়ারি
কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি অর্থনৈতিক যুদ্ধের হুমকিও দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর ওপর ২ শতাংশ ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স’ আরোপ করায় ব্রিটেনের ওপর বড় ধরনের শুল্ক (ট্যারিফ) বসানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘তারা যদি এই কর প্রত্যাহার না করে, তবে আমরা যুক্তরাজ্যের ওপর বড় ট্যারিফ বসাবো। তারা আমাদের দেশের সুযোগ নিয়ে সহজে টাকা কামাতে চায়।’
স্টারমারের অনড় অবস্থান
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের এই টানাপোড়েন শুরু হয় যখন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ওয়াশিংটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুরোধ নাকচ করে দেন। মার্কিন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য চাগোস দ্বীপপুঞ্জের ডিয়েগো গার্সিয়া সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিল, যা স্টারমার প্রত্যাখ্যান করেন।
আগামী সপ্তাহে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস এবং রানি কামিলার রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরের ঠিক আগে ফকল্যান্ড ইস্যুতে এমন তথ্য প্রকাশ পাওয়া সম্পর্কের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, রাজার এই সফর দুই দেশের মধ্যকার তিক্ততা কমাতে সহায়তা করতে পারে।