৮ম পর্বে যা ছিল- ব্রিটেনে আশ্রয় নিতে সমকামী সাজছেন বাংলাদেশি–পাকিস্তানিরা
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে বিদেশে রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদনের ধরনও বদলেছে। কিন্তু একটি বিষয় প্রায় একই রয়ে গেছে। যারা রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ তুলে বিদেশে আশ্রয় নেন, তাদের বড় একটি অংশ পরে দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেলেও আর ফেরেন না।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০০১ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ সমর্থক বা দলটির নেতাকর্মীদের একটি অংশ যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ টানা প্রায় ১৭ বছর ক্ষমতায় থাকলেও তাদের অনেকেই আর দেশে ফেরেননি।
একইভাবে, ২০০৮ সালের পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত পরিচয়ে যারা বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের বড় অংশও গত দুই বছরে দেশে ফেরেননি।
এদিকে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আবার নতুন করে আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে আশ্রয় আবেদন বাড়ছে বলে অভিবাসন–সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক প্রবণতা রাজনৈতিক আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহারের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।
যদি কেউ সত্যিই জীবনঝুঁকি, নির্যাতন বা রাজনৈতিক নিপীড়নের কারণে দেশ ছাড়েন, তাহলে দেশে পরিস্থিতি বদলালে তার অন্তত ফিরে যাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতা বদলালেও অনেকে বিদেশেই থেকে যাচ্ছেন।
লন্ডনে কর্মরত এক অভিবাসন আইনজীবী বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আশ্রয় জীবনরক্ষার চেয়ে স্থায়ীভাবে বিদেশে থাকার পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে কি না—এ প্রশ্ন এখন জোরালো।’
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এক সময় যারা আওয়ামী লীগ পরিচয়ে আশ্রয় নিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে একই পদ্ধতিতে বিএনপি বা জামায়াত পরিচয়ে আবেদন হয়েছে। এখন আবার নতুন করে আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের আবেদন দেখা যাচ্ছে।
একজন সাবেক কেসওয়ার্কার বলেন, ‘সরকার বদলালেই আবেদনকারীর রাজনৈতিক পরিচয় বদলে যায়—এমন বহু অভিযোগ আছে।’
তিনি বলেন, ‘এতে প্রকৃত নির্যাতিত ব্যক্তিদের আবেদনও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।’
মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, মামলা, হয়রানি বা প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তব ঘটনা। অনেকেই সত্যিই ঝুঁকিতে পড়েন। কিন্তু যখন আশ্রয় ব্যবস্থাকে কেউ কৌশল হিসেবে ব্যবহার করেন, তখন প্রকৃত ভুক্তভোগীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
কারণ তখন প্রতিটি আবেদনই বাড়তি সন্দেহের চোখে দেখা হয়। দীর্ঘ হয় যাচাই, কঠিন হয় প্রমাণের চাপ।
যুক্তরাজ্য বরাবরই বলে আসছে, রাজনৈতিক আশ্রয় কোনো অভিবাসন শর্টকাট নয়। মিথ্যা তথ্য, সাজানো মামলা বা ভুয়া রাজনৈতিক পরিচয়ে আবেদন করা ফৌজদারি অপরাধ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন যাচাইয়ে আরও কঠোরতা আসতে পারে। এতে প্রকৃত আবেদনকারীদের জন্যও প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে।