আগামী পহেলা জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া ‘রেড, অ্যাম্বার, গ্রিন’ ফ্রেমওয়ার্ক যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা খাতে বড় পরিবর্তন আনছে। আগে যেখানে ১০ শতাংশ ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার সহনীয় ছিল, সেখানে নতুন নিয়মে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাহারের হার ৫ শতাংশের বেশি হলেই সেটিকে ‘রেড’ তালিকায় ফেলা হবে। আর ‘গ্রিন’ তালিকায় থাকতে হলে এই হার ৪ শতাংশের নিচে রাখতে হবে।
কোনো বিশ্ববিদ্যালয় রেড তালিকায় পড়লে সরাসরি লাইসেন্স বাতিল না হলেও তাদের নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির কোটা অন্তত ১০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হবে এবং প্রতিষ্ঠানটিকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তার আওতায় আনা হবে।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে এই নীতি ইতোমধ্যেই ‘নীরব স্থগিতাদেশ’ তৈরি করেছে বলে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ তথ্যে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলের দেশগুলোর ভিসা প্রত্যাহারের হার বর্তমানে ৪ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অন্তত তিন গুণ বেশি। ফলে লাইসেন্স বাঁচানোর ভয়ে যুক্তরাজ্যের অনেক নামী বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা ও ইসলামাবাদ থেকে নতুন শিক্ষার্থী নেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে।
এর ফলে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই এসব দেশ থেকে শিক্ষার্থী যাওয়ার হার নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভিসা নীতি কঠোর করার পাশাপাশি আশ্রয় নীতিতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ ভিসায় ব্রিটেনে এসে যারা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করবেন, তারা আর স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পাবেন না। এর পরিবর্তে প্রতি ৩০ মাস অন্তর নবায়নযোগ্য একটি অস্থায়ী পারমিট দেওয়া হবে। স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে হলে তাদের টানা ২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।
এ ছাড়া এই ক্যাটাগরিতে কাজের অনুমতি পেলেও তা কেবল উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন বা ডিগ্রি পর্যায়ের পেশায় সীমিত থাকবে, ফলে সাধারণ শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে।
আগামী ২৮ মে শেষ হতে যাওয়া ‘ফ্যামিলি রিটার্নস কনসাল্টেশন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যারিস্টার সালাউদ্দিন সুমন বলেন, নতুন নীতি কার্যকর হলে কোনো শিক্ষার্থী বা কর্মী যুক্তরাজ্যে এসে আশ্রয়ের আবেদন করলে তার পুরো পরিবারকে দ্রুত নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সহজ হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন, ১৮ মাসের এই পর্যবেক্ষণ সময়ে যারা কমপ্লায়েন্স বজায় রাখতে ব্যর্থ হবে, তাদের জন্য আনুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ অনিবার্য।
এদিকে অনেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এই পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা’ হিসেবে দেখছেন। ঢাকার এক শিক্ষার্থী বলেন, “আগে আইএলটিএস আর ফান্ড থাকলেই আশা করা যেত। এখন ইউনিভার্সিটি যদি না নেয়, তাহলে সুযোগ কোথায়?”
যুক্তরাজ্যে থাকা বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এক অভিভাবক বলেন, “আমরা চাইছিলাম ছেলে ইউকেতে পড়ুক, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে বিকল্প দেশ ভাবতে হবে।”