মাত্র ১৯ বছর বয়সে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন কলি। কিন্তু বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার সেই সুখের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। কলি অনুভব করেন, তার স্বামী তাকে ভালোবাসার জন্য নয়, বরং স্রেফ ব্রিটিশ পাসপোর্টের লোভে বিয়ে করেছিলেন। সম্পর্কের শুরু থেকেই ভালোবাসা ও বিশ্বাসের পরিবর্তে জায়গা করে নেয় কঠিন নিয়ন্ত্রণ, সন্দেহ আর মানসিক জেরা।
বিয়ের প্রথম মাস থেকেই কলিকে প্রতিনিয়ত স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির অবমাননাকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। বাইরে কাজ সেরে ঘরে ফিরলেই শুরু হতো কড়া জিজ্ঞাসাবাদ। একপর্যায়ে মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি তা শারীরিক নিগ্রহে রূপ নেয়। এর মধ্যেই জন্ম নেয় তার সন্তান। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সব সহ্য করে সংসার টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু পরিস্থিতি যখন জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে পৌঁছায়, তখন ২০২১ সালে পুলিশের সহায়তায় সেই বিষাক্ত সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন কলি।
বিচ্ছেদের আগেই কলির স্বামী প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ব্রিটিশ পাসপোর্ট হাতিয়ে নিতে সক্ষম হন। বর্তমানে কলি একক মা হিসেবে সন্তানদের নিয়ে তার জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। তার এই দীর্ঘ লড়াই এবং প্রবাসের মাটিতে অভিবাসী নারীদের নীরব কান্নার চিত্রই তিনি তুলে ধরেছেন তার ‘স্কারলেট থ্রেডস’ বইটিতে।
বইটি প্রসঙ্গে কলি জানান, প্রতিকূলতা যত গভীরই হোক না কেন, দৃঢ় মনোবল থাকলে ধ্বংসস্তূপ থেকেও নতুন করে পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ ও সুধীসমাজ কলির এই পদক্ষেপকে সাহসের এক অনন্য প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, সামাজিক মর্যাদা বা আইনি জটিলতার ভয়ে অনেক নারীই নির্যাতনের কথা মুখ ফুটে বলতে পারেন না। কলির এই উদ্যোগ কেবল একটি বই নয়, বরং নিভৃতে কাঁদা অসংখ্য নারীর জন্য এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর।