গত কনজারভেটিভ সরকারের আমলে এক বছরেই তিনজন প্রধানমন্ত্রী বদল দেখেছে যুক্তরাজ্য। ২০২৪ সালে কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর সেলডন আশা করেছিলেন রাজনীতিতে হয়তো স্বাভাবিকতা ফিরবে। লেবার পার্টি এক দশকের জাতীয় পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল। কিন্তু স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্বের দুই বছর পার হওয়ার আগেই স্থানীয় নির্বাচনে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে লেবার পার্টির প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয়ের পর তার সহকর্মীরাই এখন তাকে সরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আগামী আগস্টে স্টারমারের পূর্বসূরি ঋষি সুনাকের জীবনী প্রকাশ হতে যাচ্ছে, আর লেখক সেলডন আশঙ্কা করছেন, তত দিনে যুক্তরাজ্য হয়তো সাত বছরের মধ্যে তাদের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে যাবে।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগির হয়তো আমাকে ‘ডাউনিং স্ট্রিটে অ্যাঞ্জেলা রেনার’ শিরোনামে লিখতে হতে পারে।’
১০ ডাউনিং স্ট্রিটের এই ঘন ঘন নেতা পরিবর্তনের দৃশ্য দেশের মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে যুক্তরাজ্য কি সত্যিই অশাসনযোগ্য হয়ে উঠছে?
যুক্তরাজ্যের সমস্যা মূলত বহুমাত্রিক। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট থেকে দেশটি কখনোই পুরোপুরি পুনরুদ্ধার পায়নি। এরপর থেকে প্রকৃত মজুরি স্থবির হয়ে আছে, যা করোনা মহামারি এবং ইউক্রেন যুদ্ধের মূল্যস্ফীতির ধাক্কায় আরো নাজুক হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের প্রস্থান বা ব্রেক্সিটের কারণে মাথাপিছু জিডিপি প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে বলে ধারণা করা হয়। অনুৎপাদনশীলতা ও ক্রমবর্ধমান ঋণের কারণে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের সরকারি বন্ডের মুনাফার হার এবং শিল্পখাতে বিদ্যুতের খরচ এখন সবচেয়ে বেশি।
দেশটির নির্বাচন ব্যবস্থাতেও টানাপোড়েন দেখা যাচ্ছে। ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ বা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার নির্বাচনী ব্যবস্থাটি মূলত দ্বিদলীয় ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে কার্যকর। শতাব্দীকাল ধরে লেবার ও কনজারভেটিভ পার্টি এই আধিপত্য ধরে রাখলেও বর্তমানে ইংল্যান্ডে পাঁচমুখী এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে এটি ছয়মুখী লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।
লিবারেল ডেমোক্র্যাট, গ্রিনস, ডানপন্থি রিফর্ম ইউকে এবং স্কটিশ ও ওয়েলশ স্বাধীনতার পক্ষের জাতীয়তাবাদী দলগুলোর উত্থান ঐতিহাসিক দুই দলের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। স্কটল্যান্ড ১৭০৭ সাল থেকে এবং ওয়েলস ১৫৩৬ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের অংশ।
এত সব সংকটের মাঝে অনেকেরই ধারণা, যেকোনো নেতার পক্ষেই এখন সুশাসন নিশ্চিত করা অসম্ভব। তবে জীবনীকার অ্যান্থনি সেলডন এই ধারণার সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য কোনোভাবেই অশাসনযোগ্য নয়, যদিও সাম্প্রতিক কিছু প্রধানমন্ত্রী দেশটিকে তেমনটা বানিয়ে ফেলার আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন।’
সেলডন মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে তুলনা করে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রীদের মূল্যায়ন করেন।