যুক্তরাজ্যে পাবলিক টয়লেট ও চেঞ্জিং রুম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইকুয়ালিটি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস কমিশন (EHRC) একটি নতুন ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। গত ২১ মে প্রকাশিত প্রায় ৩০০ পৃষ্ঠার এই গাইডলাইনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এখন থেকে দেশটির পাবলিক টয়লেট ও অন্যান্য লিঙ্গ-নির্দিষ্ট স্থানগুলো মূলত জৈবিক লিঙ্গের (Biological Sex) ওপর ভিত্তি করেই ব্যবহার করতে হবে। নতুন এই নির্দেশনার ফলে ট্রান্সজেন্ডার নারীরা আর সাধারণ নারীদের জন্য নির্ধারিত টয়লেট ব্যবহার করতে পারবেন না।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে আইনি ও ব্যবহারিক ক্ষেত্রে নারী হিসেবে কেবল তাদেরকেই গণ্য করা হবে, যারা জন্মসূত্রে বা জৈবিকভাবে নারী। এই পাবলিক গাইডলাইনে বলা হয়েছে, কেবল জন্মসূত্রে নারী ব্যক্তিরাই নারীদের জন্য সংরক্ষিত টয়লেট ও চেঞ্জিং রুম ব্যবহারের অধিকার পাবেন। যারা অস্ত্রোপচার বা অন্য কোনো উপায়ে লিঙ্গ পরিবর্তন করে নারী হয়েছেন (ট্রান্সজেন্ডার), তারা এই সুবিধাগুলোর আওতাভুক্ত থাকবেন না। তবে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং বৈষম্য দূর করতে প্রয়োজনে জেন্ডার-নিউট্রাল বা তৃতীয় লিঙ্গের জন্য আলাদা একক শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
EHRC-এর এই নীতিগত সুপারিশটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাঠানো হবে। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ৪০ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টে যদি এর কোনো সংশোধন বা পরিবর্তন আনা না হয়, তবে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি স্থায়ী আইনে পরিণত হবে। এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে যুক্তরাজ্যের নারী ও সমতা বিষয়ক মন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করে জানিয়েছেন, নতুন এই রূপরেখার মাধ্যমে সকল লিঙ্গের মানুষের অধিকার সুনির্দিষ্ট ও প্রতিষ্ঠিত হবে এবং কর্মক্ষেত্র ও সাধারণ স্থানে মানুষের হয়রানি ও বৈষম্য দূর করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই নতুন নির্দেশিকাটি মূলত গত বছর ব্রিটিশ সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি ঐতিহাসিক রায়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট সে সময় আইনি পরিভাষায় "নারী" শব্দের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। সর্বোচ্চ আদালতের সেই রায়ের ধারাবাহিকতাতেই ইকুয়ালিটি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস কমিশন এই কঠোর ও নতুন গাইডলাইনটি কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে।