হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় পুরো পরিবার ও যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা সবাই যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান মুজিবের মেয়ে, নাতনি ও নাতি।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ জুলাই (বুধবার) ১২ সদস্যের পরিবারটি এসেক্সের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ‘ওয়েস্ট মেরসিয়া’ সৈকতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সারাদিন আবহাওয়া ও পরিবেশ বেশ অনুকূলেই ছিল। কিন্তু বাড়ি ফেরার মাত্র মিনিট বিশেক আগে এক ভয়াবহ ও অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হন তারা।
মুসার বাবা শাহিন আহমদ জানান, পরিবারের কয়েকজন সদস্য অল্প পানিতে পা ভিজিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। এসময় প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুসহ ছয়জন সদস্য সাগরের কাছে নামলে হঠাৎ একটি শক্তিশালী রিপ টাইডের ঢেউ তাদের ওপর আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে পানির তীব্র টানে সবাই বালুর ওপর থেকে ভারসাম্য হারিয়ে সাগরের গভীরে তলিয়ে যেতে থাকেন।
ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৪১ বছর বয়সী ব্রিটিশ-বাংলাদেশি স্কুলশিক্ষিকা শেলিনা রহমান এবং তার ১৫ বছর বয়সী মেয়ে সামিহা রহমান। গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা সাত বছর বয়সী মুসা আহমদকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে (হেলিকপ্টার) দ্রুত ‘রয়েল লন্ডন হাসপাতালে’ নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ছয় দিন ধরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার রাতে সেও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মুসার জানাজার সময় পরবর্তীতে স্বজনদের পক্ষ থেকে জানানো হবে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর স্থানীয় সাগরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
শাহিন আহমদের অভিযোগ, জায়গাটি অতীতেও বিপজ্জনক ‘রিপ টাইডের’ জন্য পরিচিত হলেও সেখানে পর্যটকদের সতর্ক করার মতো পর্যাপ্ত কোনো সাইনবোর্ড বা নির্দেশিকা ছিল না। এমনকি ঘটনার সময় উপকূলে কোনো কোস্টগার্ড সদস্যও উপস্থিত ছিলেন না, অথচ দীর্ঘদিন ধরে স্থানটিতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিবারটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, খবর দেওয়ার পর এইচএম কোস্টগার্ড ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ২০ মিনিট সময় নেয়। ওই সংকটাপন্ন সময়ে উদ্ধারকারী দল পৌঁছানোর আগেই জীবন বাজি রেখে পানিতে নেমে পড়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা ‘ক্রেগ বোয়ের’। নিজের জীবন চরম ঝুঁকিতে ফেলে তিনি ভেসে যাওয়া সদস্যদের বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান, যার সাহসিকতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছে শোকাহত পরিবারটি।
এক আনন্দঘন পারিবারিক ছুটির মুহূর্ত এভাবে তিন-তিনটি প্রাণ কেড়ে নিয়ে এক অপূরণীয় শূন্যতা ও শোকের ছায়ায় ঢাকা ফেলে দিল পুরো পরিবারটিতে।