২০১৬ সালে গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির তথ্য সংগ্রহ শুরুর পর জুলাইয়ের এই সংখ্যা সর্বনিম্ন। ২০১৭ সালে যেখানে যুক্তরাজ্যে গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ৫৫ হাজারের বেশি চাকরির সুযোগ ছিল, এবার তা ১০ হাজারের নিচে নেমে এসেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি বাড়ছে, কমছে চাকরির সুযোগ
চাকরির বাজারে এমন সংকটের মধ্যেই আগামী সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রেকর্ড ২ লাখ ৬২ হাজার ৮২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে যাওয়া তরুণদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে পারে।
অ্যাডজুনার তথ্য বলছে, স্বাস্থ্যসেবা, নার্সিং, আতিথেয়তা ও লজিস্টিকসসহ বিভিন্ন খাতে চাকরির বিজ্ঞপ্তি কমেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বসন্তে চাকরির বাজারে পুনরুদ্ধারের যে ইঙ্গিত দেখা গিয়েছিল, তা এখন আবার বিপরীতমুখী হচ্ছে।
অ্যাডজুনার সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ড্রু হান্টার বলেন, জুলাইয়ের পরিসংখ্যানকে সাময়িক ওঠানামা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এক বছরের ব্যবধানে চাকরির সুযোগ কমার হার বেড়েছে এবং প্রতিটি চাকরির বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে।
শ্রম ব্যয় ও এআইয়ের প্রভাব
যুক্তরাজ্যের চাকরির বাজারে নিয়োগ কমার পেছনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বাড়তি শ্রম ব্যয়ও ভূমিকা রাখছে। জাতীয় বিমা অবদান ও ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির কারণে কর্মী নিয়োগে প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ বেড়েছে।
এর পাশাপাশি কিছু কোম্পানি নতুন কর্মী নিয়োগের পরিবর্তে অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে ক্যারিয়ারের শুরুর পর্যায়ের কিছু পদ এআইয়ের কারণে ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
শিক্ষা ও চাকরির বাইরে প্রায় ১০ লাখ তরুণ
চাকরির বাজারের এই সংকটের প্রভাব পড়ছে তরুণদের ওপরও। যুক্তরাজ্যের অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ তরুণ শিক্ষা, চাকরি বা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিলেন। এ শ্রেণির তরুণদের ‘নিট’ (NEET) বলা হয়।
কিছু খাতে বাড়ছে চাকরি
তবে সব খাতেই চাকরির সুযোগ কমেনি। অ্যাডজুনার তথ্য অনুযায়ী, সদ্য পাস করা তরুণদের জন্য ভ্রমণ, শিক্ষকতা, নির্মাণ ও কারিগরি এবং উৎপাদন খাতে চাকরির সংখ্যা বেড়েছে।
অ্যান্ড্রু হান্টার বলেন, পরিস্থিতি পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। শিক্ষকতা, ভ্রমণ, বাণিজ্য ও নির্মাণ খাতে এখনো চাকরির সুযোগ বাড়ছে এবং উৎপাদন খাতও একই পথে এগোচ্ছে। তবে এসব খাতের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় অন্যান্য খাতের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য তিন মাস আগের তুলনায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।