কিয়েভ সফরে বার্নহাম যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের উদ্যোগে গঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর বৈঠকে অংশ নেবেন। রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির পর ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া দেশগুলোকে নিয়ে এই জোট গঠিত হয়েছে। বৈঠকে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, রাশিয়ার হামলা এবং দেশটির নিরাপত্তা জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।
সফরে ইউক্রেনের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে। ব্রিটিশ সরকার প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান এমবিডিএকে স্টর্ম শ্যাডো ও স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্রের যুক্তরাজ্যে তৈরি উপাদানসংক্রান্ত কিছু গোপন তথ্য প্রকাশের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দেবে। এই প্রযুক্তিগত সহায়তা ইউক্রেনকে ভবিষ্যতে নিজস্ব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করতে পারে।
স্টর্ম শ্যাডো ও স্ক্যাল্প ক্ষেপণাস্ত্র ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যৌথ প্রযুক্তিতে তৈরি। ইউক্রেনে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের স্থানীয় সংযোজন কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়েও ফ্রান্স কাজ করছে। এ কাজে যুক্তরাজ্য সহায়তা করবে। তবে এই উদ্যোগের সুফল যুদ্ধক্ষেত্রে পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সফরের আগে বার্নহাম বলেন, ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসে দেশটির জনগণের কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে যুক্তরাজ্য তাদের পাশে রয়েছে। ইউক্রেনের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তাও জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যায়সঙ্গত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
বার্নহামের কিয়েভ সফর এমন সময়ে হচ্ছে, যখন ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা সাম্প্রতিক সময়ে আরও তীব্র হয়েছে। শুক্রবার ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলের ক্রিভি রিহ শহরের একটি শপিং সেন্টারে ড্রোন হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার কারণে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তাঁর দেশের আরও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন। সামরিক সহায়তা হিসেবে না পেলেও এগুলোর মূল্য পরিশোধ করে কিনতে ইউক্রেন প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। শীতকালীন প্রস্তুতির জন্য ৩০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান জেলেনস্কি। তাঁর মতে, ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর প্রয়োজন প্রায় ৩৬০টি।
জেলেনস্কি আরও জানিয়েছেন, চলতি বছরে ফ্রান্সের কাছ থেকে অন্তত একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে জার্মানির কাছ থেকে প্রায় ৬০০টি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইউক্রেনের আকাশসীমা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁও।
এদিকে ইউক্রেনকে ব্রিটিশ অস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে যুক্তরাজ্যকে হুঁশিয়ার করেছে রাশিয়া। মস্কোর অভিযোগ, লন্ডন ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাতকে আরও তীব্র করছে। রুশ পক্ষ বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, এর পরিণতিও তত কঠিন হবে।
তবে রাশিয়ার এই হুমকিতে ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের অবস্থানে পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছেন বার্নহাম। তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্য শুধু সুসময়ের বন্ধু নয়; ইউক্রেনের প্রয়োজনের সময়ও পাশে থাকবে।
এর মধ্যেই লন্ডনে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আন্দ্রে কেলিন দায়িত্ব ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁর স্থলাভিষিক্ত কাউকে এখনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, এর অর্থ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক কমিয়ে আনার কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
কিয়েভ সফরে বার্নহাম ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন। ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাজ্যের সমর্থনের স্বীকৃতি হিসেবে ব্রিটিশ জনগণের পক্ষে একটি পুরস্কার গ্রহণ করার কথাও রয়েছে তাঁর।