শোনা অডিও রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কর্মরত ওই তরুণীর বার্ষিক আয় প্রায় ৫০ হাজার পাউন্ড। পূর্বের একটি সম্পর্কে প্রতারিত হওয়ার পর তিনি দীর্ঘদিন একা ছিলেন। এসময় পরিচয় হয় পাকিস্তানি ওই যুবকের সঙ্গে।
পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় তাদের মধ্যে। একপর্যায়ে ওই যুবকের কথায় প্রায় ২৫ হাজার পাউন্ড মূল্যের একটি গাড়ি ফাইন্যান্স করেন তরুণী। প্রতিশ্রুতি ছিল, গাড়িটির মাসিক কিস্তি যুবক নিজেই পরিশোধ করবেন।
গাড়িটির ইনস্যুরেন্সে তরুণীকে প্রধান চালক এবং ওই যুবককে দ্বিতীয় চালক হিসেবে যুক্ত করা হয়। তবে গাড়ি কেনার প্রথম এক-দুই মাস কিস্তি পরিশোধ করার পরই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন ওই যুবক।
এরপর গাড়িটির কিস্তি অনাদায়ী হতে থাকে। একই সঙ্গে গাড়ি চালানোর সময় বিভিন্ন ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে স্পিডিং ও পার্কিংসহ একাধিক জরিমানাও জমা হতে থাকে। গাড়ির কাগজপত্রে তরুণীর নাম থাকায় এসব জরিমানা ও আইনি নোটিশ তার ঠিকানায় পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে কিস্তি ও জরিমানা পরিশোধ না হওয়ায় বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি তরুণীর ক্রেডিট স্কোরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে ওই যুবকের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে তরুণী জানতে পারেন, তিনি যুক্তরাজ্যে বৈধ ভিসা ছাড়া অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্বে থাকা ভিসার সূত্রে পাওয়া ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করে তিনি গাড়িটি চালাতেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গাড়ি ফাইন্যান্স করানোর পাশাপাশি বিভিন্ন সময় ওই তরুণীর কাছ থেকে নগদ অর্থও নিয়েছেন যুবকটি। বর্তমানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ওই তরুণী আর্থিক ক্ষতি, মানসিক চাপ ও আইনি জটিলতার মধ্যে রয়েছেন।
এ ঘটনায় যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসীদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হওয়ার পরও তার পরিচয়, আর্থিক সক্ষমতা ও বৈধ অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই না করে নিজের নামে ঋণ, গাড়ি ফাইন্যান্স বা কোনো আর্থিক দায় নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।