এর মধ্য দিয়ে রানি এলিজাবেথের সিংহাসনে থাকার সময় দাঁড়ায় ২৩ হাজার ২২৬ দিন, ১৬ ঘণ্টা ও প্রায় ৩০ মিনিট। ৮৯ বছর বয়সে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
ঐতিহাসিক এ অর্জনকে কেন্দ্র করে সেদিন যুক্তরাজ্যজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। কমনওয়েলথের বিভিন্ন দেশেও রানির দীর্ঘ শাসনকাল স্মরণ করে নানা আয়োজন করা হয়।
ঐতিহাসিক দিনটিতেও রাজকীয় কোনো বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা বা জাঁকজমকের আয়োজন করেননি রানি। বরং নিজের স্বাভাবিক কর্মসূচি অনুসরণ করেই দিনটি কাটান তিনি।
সকালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরা থেকে বাষ্পচালিত ট্রেনে চড়ে নতুন বর্ডারস রেলওয়ে উদ্বোধন করতে যান রানি। সেখানে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নিজের দীর্ঘ শাসনকাল নিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রানি বলেন, দীর্ঘ জীবনে নানা মাইলফলক আসতে পারে, তার জীবনও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে এত দীর্ঘ সময় সিংহাসনে থাকার রেকর্ড কখনো নিজের আকাঙ্ক্ষা ছিল না বলেও জানান তিনি। দেশ-বিদেশের মানুষের পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান রানি।
রানির ঐতিহাসিক অর্জনকে সম্মান জানাতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কার্যক্রমে বিশেষ আয়োজন করা হয়।
হাউস অব কমন্সে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন রানির দীর্ঘ শাসনের প্রশংসা করে বলেন, ছয় দশকের বেশি সময় ধরে পরিবর্তনশীল বিশ্বের মধ্যে রানি ছিলেন ব্রিটেনের জন্য একটি স্থির ও নির্ভরযোগ্য প্রতীক।
তিনি রানিকে যুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্মগুলোর মধ্যে সংযোগ তৈরি করা একটি ‘সোনার সুতো’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এরপর পার্লামেন্ট সদস্যরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে রানিকে সম্মান জানান।
রানির রেকর্ড উদযাপনের অংশ হিসেবে লন্ডনের টেমস নদীতে আয়োজন করা হয় বিশেষ নৌ-শোভাযাত্রার।
রাজকীয় নৌযান ‘গ্লোরিয়ানা’র নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ও আধুনিক বিভিন্ন নৌযানের একটি বহর এতে অংশ নেয়। দুপুরে নৌবহরটি টাওয়ার ব্রিজের নিচ দিয়ে অতিক্রম করার সময় রানির সম্মানে ব্রিজটি বিশেষভাবে উন্মুক্ত করা হয়।
এসময় ঐতিহাসিক যুদ্ধজাহাজ ‘এইচএমএস বেলফাস্ট’ থেকে তোপধ্বনির মাধ্যমে রানির ঐতিহাসিক অর্জনকে সম্মান জানানো হয়।
১৯৫২ সালে বাবা রাজা ষষ্ঠ জর্জের মৃত্যুর পর মাত্র ২৫ বছর বয়সে ব্রিটিশ সিংহাসনে বসেন এলিজাবেথ।
দীর্ঘ ৬৩ বছরের বেশি সময় ব্রিটেনের রাজমুকুট ধরে রাখার মধ্য দিয়ে তিনি শুধু রানি ভিক্টোরিয়ার রেকর্ডই ভাঙেননি, বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবেও নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেন।
২০১৫ সালের সেই দিনটি তাই ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে যেমন স্মরণীয় হয়ে আছে, তেমনি বিশ্বজুড়েও তা ছিল এক অনন্য ঐতিহাসিক মাইলফলক।