বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০০৮ সালে রয়্যাল মিন্ট যখন ২০ পেন্স কয়েনের নকশা পরিবর্তন করে, তখন একটি বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ত্রুটি ঘটে। মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় দুই ভিন্ন ডিজাইনের ডাই (ছাঁচ) ভুলভাবে একসঙ্গে ব্যবহার করার ফলে প্রায় ২ লাখের মতো কয়েন কোনো ধরনের উৎপাদন সাল বা তারিখ ছাড়াই বাজারে চলে আসে। মুদ্রা সংগ্রাহকদের ভাষায় এই ধরনের বিরল ত্রুটিকে 'মিউল এরর' (Mule Error) বলা হয়। ২০০৮-২০০৯ সালের দিকে উৎপাদিত প্রায় ১৩ কোটি ৬০ লাখ কয়েনের তুলনায় এই ত্রুটিযুক্ত কয়েনের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মুদ্রা বিশেষজ্ঞ 'কয়েন কালেক্টিং উইজার্ড' সাধারণ মানুষকে তাদের পকেটে থাকা খুচরা পয়সা যাচাই করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, "আপনার ২০ পেন্স কয়েন না দেখে খরচ করবেন না। কারণ ২০০৮ সালের এই তারিখবিহীন একটি কয়েন বর্তমান বাজারে প্রায় ৬০ পাউন্ড বা তারও বেশি মূল্য পেতে পারে।" এমনকি অনলাইন কেনাবেচার জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ই-বে (eBay)-তে এই ধরনের কিছু ত্রুটিযুক্ত কয়েন প্রায় ৯৯ পাউন্ড ৫০ পেন্স পর্যন্ত দামে তালিকাভুক্ত হতে দেখা গেছে।
রয়্যাল মিন্টের তথ্যানুযায়ী, ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে তৈরি হওয়া এই ত্রুটিযুক্ত মুদ্রাগুলো এখনো আইনিভাবে বৈধ এবং সাধারণ বাজারে এর মূল্য ২০ পেন্সই রয়েছে। তবে সংগ্রাহকদের বাজারে এর চাহিদা আকাশচুম্বী। ব্রিটেনের বার্মিংহাম ও লন্ডনসহ বিভিন্ন শহরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এই খবরে বেশ চমকপ্রদ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। অনেকে জানিয়েছেন, প্রতিদিন অসচেতনভাবে তারা এই মুদ্রা ব্যবহার করলেও এখন থেকে প্রতিটি কয়েন ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখবেন। কোনো ২০ পেন্স কয়েনের উভয় পাশে যদি কোনো তারিখ বা সাল খুঁজে পাওয়া না যায়, তবে সেটিই সেই কাঙ্ক্ষিত বিরল মুদ্রা।