বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বাইরের চেয়ে অনেক বাড়ি ও ফ্ল্যাটের ভেতরের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে কাচ ঘেরা আধুনিক অ্যাপার্টমেন্ট, নতুন নির্মিত ভবন এবং যেসব আবাসে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের সুব্যবস্থা নেই, সেগুলোর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত স্পর্শ করতে পারে। স্মার্ট হিটিং প্রতিষ্ঠান ‘ট্যাডো’ (Tado)-এর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে দ্রুত বেড়ে সোমবার নাগাদ চরম ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাবে, যা স্পেন ও গ্রিসের মতো জনপ্রিয় পর্যটন এলাকার বর্তমান তাপমাত্রাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই অতিরিক্ত গরমের কারণে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, হাসপাতাল ও কেয়ার হোমগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। তীব্র গরমে হাসপাতাল ও কেয়ার হোমগুলোর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রাও নিরাপদ সীমা অতিক্রম করতে পারে। বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ, শিশু এবং হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই আবহাওয়া মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
গবেষকদের মতে, লন্ডনে ‘আরবান হিট আইল্যান্ড’ (Urban Heat Island) প্রভাবের কারণে শহরের কংক্রিট, পিচঢালা রাস্তা এবং বহুতল ভবনগুলো প্রচুর তাপ ধরে রাখছে। ফলে পার্শ্ববর্তী গ্রামীণ অঞ্চলের তুলনায় লন্ডনে তাপমাত্রা প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি অনুভূত হতে পারে। এছাড়া রাতেও ঘরগুলো ঠান্ডা হওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ না পাওয়ায় দিনের তীব্র গরম ভেতরের দেয়ালে আটকে থাকছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই যুক্তরাজ্যে এখন এ ধরনের তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
এই চরম আবহাওয়ায় নাগরিকদের সুরক্ষায় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু জরুরি পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে—প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা, দুপুরের তীব্র রোদ এড়িয়ে চলা, এবং দিনের বেলায় জানালা ও পর্দা বন্ধ রেখে ঘরের ভেতরের অংশ ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করা। এছাড়া শিশু ও বয়স্কদের একা না রাখা, কোনো অবস্থাতেই বন্ধ গাড়ির ভেতরে শিশু বা পোষা প্রাণী রেখে না যাওয়া এবং একা থাকা ও অসুস্থ প্রতিবেশীদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।