লন্ডনের প্রাণকেন্দ্রে আয়োজিত ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ নামক এই সমাবেশে ব্রিটেনের কট্টর ডানপন্থী নেতা টমি রবিনসন ও তার সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ থেকে তারা সমর্থকদের ‘ব্যাটল অফ ব্রিটেন’ বা ব্রিটেনের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হওয়ার উস্কানিমূলক আহ্বান জানান। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সমাবেশে লাখো মানুষের উপস্থিতির দাবি করা হলেও, স্থানীয় পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ এতে অংশ নেন। সমাবেশ চলাকালীন জাতিগত বৈষম্য এবং ইসলাম বিদ্বেষী বক্তব্য ছড়ানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার মন্তব্যের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, নিজেদের সংস্কৃতি ও একটি নিরাপদ সমাজ রক্ষা করতে চাওয়া কোনোভাবেই ভুল নয়। তার এই বক্তব্যকে ব্রিটেনের কট্টর ডানপন্থী ও অভিবাসন বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি আমেরিকার সরাসরি সমর্থন হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এমন অবস্থানকে স্বাধীন একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বলেও মনে করছেন অনেকে।
মার্কিন প্রশাসনের এই অবস্থানের বিপরীতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, এই ধরনের উগ্রপন্থী আন্দোলন ব্রিটেনের বহু সংস্কৃতির সাধারণ কমিউনিটিগুলোতে কেবল ঘৃণা, সহিংসতা ও সামাজিক বিভাজন তৈরি করছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ব্রিটিশ সরকার ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন বিদেশী কট্টর ডানপন্থী নেতার যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ভিসা বাতিল করার মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।