যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরের হাই স্ট্রিট এলাকায় সক্রিয় সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে বড় ধরণের অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ব্রিটিশ সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সন্দেহজনক বারবার শপ, ভেইপ স্টোর, মিনিমার্ট ও মিষ্টির দোকান গুলোর আড়ালে অর্থ পাচার, কর ফাঁকি এবং অবৈধ শ্রমিক নিয়োগের মত অপরাধ চালানো হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে আগামী তিন বছরে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশেষ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এর মধ্যে ২০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে সরাসরি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (NCA)-এর অধীনে একটি বিশেষ সমন্বয় সেল গঠন করা হবে, যেখানে বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি, অপরাধপ্রবণ এলাকা গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অর্থ পাচারের নেটওয়ার্ক সনাক্তকরণ এবং মাঠ পর্যায়ের সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে NCA গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ, ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ এবং কেন্ট এসেক্স যৌথ ইউনিটে মোট ৭৫ জন নতুন পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ট্রেডিং স্ট্যান্ডার্ডস বিভাগকে স্থানীয় পর্যায়ে ভুয়া ও সন্দেহজনক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আরও ৬ মিলিয়ন পাউন্ড দেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের এমন অবৈধ ব্যবসা সনাক্ত এবং আইন প্রয়োগে আরও দক্ষ করে তোলা হবে। এছাড়া, প্রকাশ্যে পরিচালিত অপরাধ চক্র গুলোকে চিহ্নিত করে সমন্বিত ব্যবস্থা নিতে সরকার 'হাই স্ট্রিট অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট' নামে একটি নতুন বিশেষ ইউনিট চালু করেছে।
যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা মন্ত্রী ড্যান জারভিস-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই ইউনিট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করবে, যার মধ্যে অপরাধে জড়িত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখার আইনি ক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। NCA-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর অন্তত ১২ বিলিয়ন পাউন্ডের অপরাধমূলক অর্থ তৈরি হয়, যার মধ্যে প্রায় ১ বিলিয়ন পাউন্ড হাই স্ট্রিটের বিভিন্ন ব্যবসার মাধ্যমে পাচার করা হয়। সরকারের দাবি, এই বিশেষ অভিযানে হাজার হাজার দোকানে তল্লাশি চালানো হবে, শত শত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হবে এবং কোটি কোটি পাউন্ড জব্দ করা হবে।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শবানা মাহমুদ এই অভিযান প্রসঙ্গে বলেন, অপরাধ চক্র গুলো হাই স্ট্রিট ব্যবহার করে কালো টাকা সাদা করছে এবং সৎ ব্যবসা গুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দেশব্যাপী কঠোর অভিযান চালিয়ে এসব অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে। একই সুর মিলিয়ে সিটি অব লন্ডন পুলিশের আর্থিক তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তা নিক অ্যাডামস বলেন, হাই স্ট্রিট বৈধ ব্যবসার জন্য নিরাপদ জায়গা হওয়া উচিত, অপরাধীদের আড়াল হওয়ার জায়গা নয়।
ব্রিটেনে বসবাসরত অনেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশী সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রের কারণে পুরো কমিউনিটির সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে কিছু বারবার শপ, ভেইপ স্টোর ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অর্থ পাচার ও অবৈধ কার্যক্রমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী।