বাণিজ্যিক এই চুক্তিটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে ব্রিটিশ পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে এক বিশাল সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হবে। এর ফলে ওই অঞ্চলের দেশগুলোতে রপ্তানি করা ব্রিটিশ পণ্যের ওপর থেকে বছরে প্রায় ৫৮০ মিলিয়ন পাউন্ড শুল্ক প্রত্যাহার করা সম্ভব হবে। শুল্কমুক্ত এই সুবিধার কারণে ব্রিটেনের বিভিন্ন ছোট-বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এই ছয়টি দেশে তাদের ব্যবসার পরিধি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ পাবে, যা দুই অঞ্চলের বাজারেই নতুন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭-এর কোনো সদস্য রাষ্ট্রের সাথে জিসিসি-র এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি। এই অর্জনকে ব্রিটেনের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার একে ‘ব্রিটেনের জন্য একটি বড় অর্জন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তবে এই বিশাল অর্থনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি চুক্তিটি নিয়ে কিছু মহলে বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই এই চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছে। তাদের দাবি, চুক্তিটিতে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মরত শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা আইনের বিষয়টি অত্যন্ত দুর্বল। সংস্থাগুলোর মতে, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষার ব্যাপারে এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে তেমন কোনো স্পষ্ট বা সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, যা ভবিষ্যতে শ্রমিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।