সরকারি নিয়মানুযায়ী, এই স্কিমের আওতায় কর্মজীবী বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানের চাইল্ডকেয়ার বাবদ প্রতি ৮ পাউন্ড খরচ করলে, সরকার তাতে অতিরিক্ত ২ পাউন্ড যোগ করে। এভাবে বছরে প্রতিটি সাধারণ শিশুর জন্য সর্বোচ্চ ২,০০০ পাউন্ড এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত সরকারি সহায়তা পাওয়া সম্ভব। এই অর্থ নার্সারি, চাইল্ডমাইন্ডার, ন্যানি কিংবা স্কুল-পরবর্তী কেয়ারের খরচ মেটাতে ব্যবহার করা যায়।
তবে এই বিশাল আর্থিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও অনেক পরিবার স্কিমটির সুবিধা নিতে পারছেন না। সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় ৮ লাখ পরিবার এই স্কিমের যোগ্য বা এলিজিবল হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ৫ লাখ ৮০ হাজার পরিবার বর্তমানে এটি ব্যবহার করছেন। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এর কঠিন বাস্তব ব্যবস্থাপনা। এই সুবিধা পেতে হলে অভিভাবকদের সম্পূর্ণ আলাদা একটি অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়, প্রতি মাসে নিয়ম করে টাকা জমা দিতে হয় এবং সেখান থেকে নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে হয়, যা অনেক অভিভাবকের জন্যই বেশ ঝামেলার।
এই চাইল্ডকেয়ার স্কিমের সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্তও রয়েছে। সুবিধাভোগী প্রতি অভিভাবককে সপ্তাহে অন্তত ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হবে এবং ন্যূনতম আয়ের সমপরিমাণ উপার্জন করতে হবে। একই সাথে তাদের বার্ষিক আয় হতে হবে ১ লাখ (১০০ হাজার) পাউন্ডের নিচে। সাধারণত ১১ বছর বয়স পর্যন্ত এবং সন্তান প্রতিবন্ধী হলে ১৬ বছর বয়সের কম সন্তানদের ক্ষেত্রে এই ট্যাক্স-ফ্রি চাইল্ডকেয়ার সুবিধা প্রযোজ্য হয়। সব মিলিয়ে, অর্থনৈতিকভাবে স্কিমটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক হলেও, এর প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত জটিলতা কাটিয়ে এটি সহজতর না করা পর্যন্ত বহু পরিবার এই রাষ্ট্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছেন।