আইনটি মূলত দেশটির ‘ইয়ুথ জাস্টিস সিস্টেম’ বা তরুণ বিচার ব্যবস্থা সংস্কারের একটি অংশ। নতুন এই কাঠামোর অধীনে, সন্তানদের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপরাধমূলক আচরণ সংশোধনে বাবা-মাকে আইনগতভাবে বাধ্য করা হবে। সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালনায় প্রয়োজনে বাবা-মায়ের জন্য বাধ্যতামূলক কাউন্সেলিং বা পরামর্শকালীন সেশনের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এই নির্দেশনা বা কাউন্সেলিং মেনে চলতে ব্যর্থ হলে, সংশ্লিষ্ট অভিভাবককে কঠোর জরিমানা কিংবা কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
সরকারি বিভিন্ন তদন্ত ও গবেষণার সূত্র ধরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রেই কিশোর অপরাধীরা অপরাধে জড়ানোর প্রাথমিক স্তরে যদি বাবা-মা শক্ত ভূমিকা রাখতেন বা হস্তক্ষেপ করতেন, তবে বহু অপরাধমূলক ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। এছাড়া সরকারের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, বর্তমানে কারাগারে সাজাভোগ করা অপরাধীদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ কিশোরই তাদের জীবনের সিংহভাগ অপরাধ সংঘটন করেছে মূলত শিশু বয়সে। অর্থাৎ, শৈশবেই অপরাধের প্রবণতা রুখে দেওয়া না গেলে তা পরবর্তীতে বড় অপরাধে রূপ নেয়।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ‘প্যারেন্টিং অর্ডার’ বা অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত নির্দেশনা ভঙ্গের সর্বোচ্চ জরিমানা ১ হাজার পাউন্ড। নতুন আইনের আওতায় এই জরিমানার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯-১০ অর্থবছরে দেশটিতে মোট ১ হাজারটি প্যারেন্টিং অর্ডার জারি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে এর প্রয়োগ ব্যাপক হারে কমে যায় এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই সংখ্যাটি মাত্র ৩৩-এ নেমে আসে। মূলত এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনতেই নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।
তবে এই আইনটি কেবল শাস্তিমূলক নয়, বরং পরিবারগুলোকে সহায়তার উদ্দেশ্যে তৈরি বলে জানিয়েছেন ব্রিটেনের ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার এবং বিচারমন্ত্রী ডেভিড লামি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য বাবা-মাকে অপরাধী হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো নয়, বরং সন্তানদের সঠিক পথে পরিচালনায় এবং তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে পরিবারগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া।