অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইগ্রেশন অবজারভেটরির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রায় ৬৫ শতাংশই এসেছে সরাসরি নেট অভিবাসনের (Net Migration) মাধ্যমে। বিশেষ করে ২০২০ সালের পর থেকে দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রায় সম্পূর্ণ অংশ জুড়েই রয়েছে অভিবাসীদের অবদান। সরকারি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যা যেখানে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ, তা ২০৪৯ সালের মধ্যে বৃদ্ধি পেয়ে ৭ কোটি ২০ লাখে পৌঁছাতে পারে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, এই সম্ভাব্য বৃদ্ধির প্রায় ১৮০ শতাংশই আসবে নেট অভিবাসন থেকে। ২০৩০ সালের পর দেশে জন্মের তুলনায় মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কার কারণেই এই গাণিতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসে ‘ন্যাচারাল চেঞ্জ’ বা জন্ম ও মৃত্যুর স্বাভাবিক ব্যবধান নেতিবাচক (Negative) হতে শুরু করেছে। অর্থাৎ, এই অঞ্চলগুলোতে নতুন জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যার চেয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি এই পরিস্থিতিতে অভিবাসনের প্রবাহ কমিয়ে দেওয়া হয়, তবে যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যা উল্টো কমতে শুরু করবে। এর ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজার, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (NHS), পেনশন ব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর নজিরবিহীন নেতিবাচক চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে দ্রুত এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি ভিন্ন পিঠও রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর তথ্যমতে, অনিয়ন্ত্রিত বা দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে দেশটির আবাসন খাত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং অন্যান্য মৌলিক অবকাঠামোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এই দ্বিমুখী সংকটের কারণে অভিবাসন বিষয়টি যুক্তরাজ্যে এখন আর কেবল সাধারণ কোনো রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয় নয়; বরং এটি দেশটির ভবিষ্যৎ অর্থনীতি ও জনসংখ্যা টিকিয়ে রাখার একটি কেন্দ্রীয় ও অস্তিত্বগত প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। বর্তমান ব্রিটিশ রাজনীতিতে অভিবাসনকে অন্যতম বড় ‘দাবার ঘুঁটি’ হিসেবে ব্যবহার করা হলেও, বাস্তব অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি বলছে—কম জন্মহার, প্রবীণ জনসংখ্যা এবং তীব্র শ্রমসংকটের এই সময়ে অভিবাসন ছাড়া ব্রিটেনের জনসেবা ও অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখা প্রায় অসম্ভব।