সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নতুন অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ঐতিহ্যবাহী 'কিংস স্পিচে' (রাজার ভাষণ) তিনি এই প্রস্তাবনাটি তুলে ধরেন। দেশটির বর্তমান ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের নতুন আইন প্রণয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো—কোনো ব্যক্তির যৌন অভিমুখিতা (Sexual Orientation) কিংবা লিঙ্গ পরিচয় (Gender Identity) পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে পরিচালিত যেকোনো ধরণের জোরপূর্বক অপব্যবহার, ক্ষতিকর মনস্তাত্ত্বিক চাপ ও তথাকথিত রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। মূলত সমকামী বা রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের ওপর জোর খাটানো বা তাদের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বদলে দেওয়ার অবৈজ্ঞানিক চেষ্টা বন্ধ করতেই এই আইনি কাঠামো তৈরি করছে ব্রিটিশ সরকার।
তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজা চার্লস কর্তৃক এই থেরাপি সরাসরি নিষিদ্ধ করার খবর ছড়িয়ে পড়লেও, বাস্তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত আইনে পরিণত হয়নি। বর্তমানে এটি একটি সরকারি প্রস্তাব বা খসড়া বিল হিসেবে রয়েছে। এটি এখন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে বিস্তারিত আলোচনা, বিতর্ক ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত আইনি রূপ লাভ করবে।
আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, 'কনভার্সন থেরাপি' কোনো বৈধ বা বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। বরং এটি মানুষের স্বাভাবিক যৌন ও লিঙ্গ পরিচয় জোরপূর্বক পরিবর্তনের একটি অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রচেষ্টা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সহ আন্তর্জাতিক মনস্তাত্ত্বিক সংগঠন এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই এই চর্চাকে চরম ক্ষতিকর, অনৈতিক ও নিপীড়নমূলক হিসেবে আখ্যায়িত করে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নতুন এই আইনটি যেমন একদিকে জোরপূর্বক ও ক্ষতিকর কনভার্সন থেরাপি বন্ধে কঠোর ভূমিকা রাখবে, তেমনি অন্যদিকে মানুষের লিঙ্গ পরিচয় বা যৌনতা সংক্রান্ত বৈধ মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ, কাউন্সেলিং এবং স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক উন্মুক্ত ও গঠনমূলক আলোচনা যাতে কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও যথাযথ ভারসাম্য বজায় রাখবে।