যুক্তরাজ্যের জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'অফজেম' (Ofgem)-এর দীর্ঘ তদন্তের পর ব্রিটিশ গ্যাসকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৮ সালের একটি বাহ্যিক (external) রিপোর্টে প্রথম প্রকাশ পায় যে, ব্রিটিশ গ্যাস তাদের ঝুঁকিপূর্ণ ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল গ্রাহকদের জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার বসাতে বাধ্য করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা সরাসরি গিয়ে জোর খাটানোর মাধ্যমে এই মিটার স্থাপন করেছেন, যা ব্রিটেনের প্রচলিত আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরবর্তীতে ২০২১ সালের একটি অডিট রিপোর্টেও প্রতিষ্ঠানটিকে এই বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সতর্কতা উপেক্ষা করে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ গ্যাস তাদের এই বিতর্কিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখে। অফজেম-এর পূর্ণাঙ্গ তদন্তে এই আইন লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পর, ব্রিটিশ গ্যাস গ্রাহকদের অর্থ ফিরিয়ে দিতে সম্মত হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, বিপুল অঙ্কের এই ক্ষতিপূরণ বিভিন্ন স্তরে বণ্টন করা হবে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিল পরিশোধে অসমর্থ গ্রাহকদের প্রায় ৭০ মিলিয়ন পাউন্ডের বকেয়া ঋণ মওকুফ করে দেওয়া হবে। এছাড়া, ২০২৩ সালে ব্রিটিশ গ্যাসের ঘোষিত একটি বিশেষ অফারের বাকি থাকা প্রায় ২২ মিলিয়ন পাউন্ড এবং সাধারণ গ্রাহকদের জন্য আরও প্রায় ১১২ মিলিয়ন পাউন্ড পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সম্প্রসারিত এই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই অফজেম-এর নির্দেশিত ২০ মিলিয়ন পাউন্ড সরাসরি ভুক্তভোগী গ্রাহকদের কাছে ফেরত যাবে।
সম্প্রতি শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি ব্রেকিং নিউজ হিসেবে প্রচার করা হয়। বর্তমানে ব্রিটেনে প্রায় ৭.৫ মিলিয়ন পরিবার (Households) বিভিন্নভাবে ব্রিটিশ গ্যাসের সেবা গ্রহণ করছেন, যাদের একটি বড় অংশই প্রিপেইমেন্ট বা অগ্রিম টপ-আপের মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহার করেন। রান্নার মাঝপথে হঠাৎ গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ার মতো চরম অমানবিক ও ভোগান্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে অনেক পরিবারকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গ্রাহকদের এই অর্থ পাওয়ার জন্য আলাদা কোনো ঝামেলার মুখোমুখি হতে হবে না। ব্রিটিশ গ্যাসের পক্ষ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে (automatically) গ্রাহকদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে যোগাযোগের প্রক্রিয়া ও নির্দেশনা জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে যেসব গ্রাহককে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার ব্যবহারে বাধ্য করা হয়েছে বা অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া হয়েছে, তারা চাইলে সরাসরিও কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। অফজেম জানিয়েছে, অন্যান্য গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও একই ধরণের তদন্ত চলমান রয়েছে।