নিউ ইকোনমিক্স ফাউন্ডেশন (এনইএফ)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, ইংল্যান্ডের প্রতিটি অঞ্চলে বাড়ি ভাড়া প্রতি বছর গড়ে ৬ থেকে ৯ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধারাবাহিক এই মূল্য বৃদ্ধির ফলে নিম্ন আয়ের ভাড়াটিয়ারা মারাত্মক সংকটে পড়েছেন, যেখানে তাঁদের আয়ের প্রায় অর্ধেক (৪৮.৫ শতাংশ) শুধু ভাড়ার পেছনেই ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি কার্যকর হওয়া লেবার সরকারের ‘রেন্টারস রাইটস অ্যাক্ট ২০২৬’ ভাড়া ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার এনেছে। এই আইনের অধীনে ‘সেকশন ২১’ উচ্ছেদ নোটিশ বাতিল, নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তি প্রথা বিলোপ এবং অতিরিক্ত আগাম ভাড়া নেওয়ার সীমা নির্ধারণের মতো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হলেও গবেষকরা বলছেন, ভাড়াটিয়াদের আইনি নিরাপত্তা বাড়লেও ভাড়ার খরচ সরাসরি নিয়ন্ত্রণে না আনলে এই আবাসন সংকট থেকে পুরোপুরি মুক্তি মিলবে না।
সংকট নিরসনে এনইএফ সরকারকে যে ‘ইমার্জেন্সি ব্রেক’ ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দিয়েছে, সেই অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির হার দেশের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি অথবা ২ শতাংশ—এই দুটির মধ্যে যেটি কম হবে, তার বেশি হতে পারবে না। একই সাথে ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী 'ফেয়ার রেন্ট' বা ন্যায়সংগত ভাড়া নীতি চালুরও সুপারিশ করা হয়েছে। এনইএফ-এর সিনিয়র গবেষক মলি হ্যারিস এ প্রসঙ্গে বলেন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার হলেও বর্তমানে লাখো মানুষ অতিরিক্ত অর্থ দিয়েও নিম্নমানের বাড়িতে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। তাঁর মতে, পুরনো কিন্তু কার্যকর ভাড়া নিয়ন্ত্রণ প্রথাকে আধুনিক উপায়ে ফিরিয়ে আনলে দেশের সাধারণ মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।
অবশ্য বর্তমান আইনি কাঠামোতে ভাড়াটিয়ারা অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করার সুযোগ পান এবং বছরে একবারের বেশি ভাড়া বাড়ানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে লেবার সরকার এখনও সরাসরি 'রেন্ট ক্যাপ' বা ভাড়া নিয়ন্ত্রণের কড়া নীতির বিপক্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে। যুক্তরাজ্যের হাউজিং মন্ত্রী ম্যাথিউ পেনিকুক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকার রেন্ট কন্ট্রোল চালুর কোনো পরিকল্পনা করছে না, কারণ এটি বাস্তবসম্মত বা কার্যকর কোনো নীতি নয়।
বিপরীতে, প্রতিবেদনে স্থানীয় মেয়র ও আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষকে নির্দিষ্ট এলাকাগুলোতে 'রেন্ট প্রেশার জোন' ঘোষণা করার ক্ষমতা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে স্থানীয়ভাবে অস্বাভাবিক ভাড়া বৃদ্ধি রোধ করা যায়। এই প্রস্তাবকে জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন লন্ডনের ডেপুটি মেয়র ফর হাউজিং টম কপলি। তিনি উল্লেখ করেন, লন্ডনে ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি এবং রাজধানীর বাসিন্দাদের সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের হাতে ভাড়া বৃদ্ধির সীমা নির্ধারণের আইনি ক্ষমতা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এদিকে জোসেফ রউনট্রি ফাউন্ডেশন এবং অটোনমি ইনস্টিটিউট-এর যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের অধিকাংশ বাড়িওয়ালা অন্যান্য সাধারণ বিনিয়োগের তুলনায় আবাসন খাত থেকে অনেক বেশি মুনাফা করছেন। তাঁদের গবেষণা অনুযায়ী, যদি ভাড়া বৃদ্ধির ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়, তবে আগামী ছয় বছরে একজন সাধারণ ভাড়াটিয়া বছরে গড়ে প্রায় ১২০০ পাউন্ড পর্যন্ত সাশ্রয় করতে সক্ষম হবেন। যদিও সরকারের দাবি, নতুন রেন্টারস রাইটস অ্যাক্টটি গত ৪০ বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ভাড়া ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় এবং যুগান্তকারী সংস্কার, যা ভাড়াটিয়াদের অযৌক্তিক উচ্ছেদ ও আর্থিক শোষণ থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষা দেবে।