কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, যাদের কাছে নতুন ইস্যু হওয়া নীল রঙের ব্রিটিশ পাসপোর্ট রয়েছে, তারা সাধারণত এসব শর্তের ক্ষেত্রে নিরাপদ অবস্থানে আছেন। তবে যারা এখনও পুরনো লাল রঙের পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন, তাদের দ্রুত পাসপোর্টের মেয়াদ ও ইস্যুর তারিখ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় পাসপোর্টে মেয়াদ দৃশ্যমান থাকলেও সেটি যদি ১০ বছরের বেশি পুরনো হয়, তবে বেশ কিছু দেশ ভ্রমণের অনুমতি দেয় না। এই জটিলতা এড়াতে বিশেষজ্ঞরা ভ্রমণের পরিকল্পনা করার অন্তত ৩ থেকে ৬ মাস আগেই পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছেন।
নতুন কার্যকর হওয়া ফি অনুযায়ী, অনলাইনে প্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্ট নবায়নের খরচ ৯৪.৫০ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১০২ পাউন্ড করা হয়েছে। আর শিশুদের পাসপোর্টের ফি ৬১.৫০ পাউন্ড থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৬.৫০ পাউন্ডে। যারা জরুরি ভিত্তিতে একদিনের মধ্যে প্রিমিয়াম সার্ভিস নিতে চান, তাদের জন্য এখন গুনতে হবে ২৩৯.৫০ পাউন্ড। এর পাশাপাশি ডাকযোগে (Post) আবেদনকারীদের খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে; যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নতুন ফি ১১৫.৫০ পাউন্ড এবং শিশুদের জন্য ৮০ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্যও পাসপোর্টের আবেদন ফি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশ থেকে অনলাইনে আবেদনকারী প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ফি ১১৬.৫০ পাউন্ড এবং শিশুদের জন্য ৭৫.৫০ পাউন্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, ডাকযোগে বিদেশ থেকে আবেদন করতে হলে প্রাপ্তবয়স্কদের ১৩০ পাউন্ড এবং শিশুদের জন্য ৮৯ পাউন্ড পরিশোধ করতে হবে। ফলে, যেসব পরিবারে একাধিক সদস্যের পাসপোর্ট একসাথে নবায়ন করতে হচ্ছে, তাদের ওপর এককালীন বড় অঙ্কের আর্থিক চাপ তৈরি হবে।
যুক্তরাজ্যের হোম অফিস এই মূল্য বৃদ্ধির পক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছে, পাসপোর্ট সেবার সম্পূর্ণ পরিচালন ব্যয় ব্যবহারকারীদের মাধ্যমেই তুলে আনার উদ্দেশ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন ফি থেকে সংগৃহীত অর্থ পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়া আধুনিকায়ন, বিদেশে নাগরিকদের কনস্যুলার সহায়তা প্রদান, হারানো বা চুরি হওয়া পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা এবং যুক্তরাজ্যের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। সরকারের দাবি, এই রাজস্ব সরাসরি সাধারণ করদাতার ওপর চাপ না বাড়িয়ে সেবাগ্রহীতাদের মাধ্যমেই সংস্থান করা হচ্ছে।
তবে এই দফায় ফি বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ নাগরিক ও ভোক্তা অধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, আবাসন ভাড়া এবং জ্বালানি সংকটের এই সময়ে পাসপোর্টের খরচ বৃদ্ধিকে অনেকেই মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখছেন। উল্লেখ্য, গত ৫ বছরে কয়েক দফায় ব্রিটিশ পাসপোর্টের খরচ বাড়ানো হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রায় ৯ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে আরও ৭ শতাংশ বৃদ্ধির পর, সাম্প্রতিক এই মূল্য বৃদ্ধির ফলে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অনলাইনে সাধারণ পাসপোর্ট নবায়নের খরচ ১০০ পাউন্ডের মাইলফলক অতিক্রম করল।