সর্বশেষ অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকস (ONS)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে বেকারত্বের হার অপ্রত্যাশিতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে, যা দেশটির ভঙ্গুর শ্রমবাজারের চিত্রকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলছে। একই সাথে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ (ভ্যাকেন্সি) আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়ে ৭ লাখ ৫ হাজারে নেমে এসেছে, যা বিগত ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। শ্রমবাজারের এই স্থবিরতার কারণে গত ৬ বছরের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধির হারও এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
বিশেষ করে কম মজুরির খাত যেমন—হসপিটালিটি, রিটেইল এবং সার্ভিস সেক্টর বা সেবা খাত এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 'চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব পার্সোনেল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট' (CIPD)-এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশের ব্যবসায়ী ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক আস্থা বর্তমানে রেকর্ড নিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। ফলে কোম্পানিগুলো নতুন কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসে পরিচালন ব্যয় কমানো এবং বাজেট সাশ্রয় করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে গড় বেতন বৃদ্ধির হার ৩ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও, তা ভবিষ্যৎ উচ্চ মূল্যস্ফীতির হারের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জ্বালানি সংকটের এই দ্বিমুখী চাপে পড়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। সব মিলিয়ে, জ্বালানির লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে এক দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।