দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী, তারা ক্ষমতায় এলে আর কাউকে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে না। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যে যারা এই অনুমতি পেয়েছেন, তাদের অবস্থানও পুনর্বিবেচনা করে আবার অস্থায়ী বসবাসের অনুমতির আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে প্রায় ২০ লাখ অভিবাসী তাদের বর্তমান আইনগত অবস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
দলটি তাদের পরিকল্পনায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত প্রায় ৬ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে দ্রুত বহিষ্কার করা হবে। এ জন্য বড় পরিসরে আটক কেন্দ্র নির্মাণ এবং ভাড়া করা বিশেষ উড়োজাহাজের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নীতি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়া প্রায় ১৭ লাখ মানুষ, যারা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার আশা করেছিলেন। পাশাপাশি, দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কর্মরত হাজার হাজার সেবাকর্মী—যাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশি—তাদের অবস্থানও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এমন কঠোর অভিবাসন নীতি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ও সামাজিক সেবা খাত, যা অনেকাংশেই অভিবাসী শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল, সেখানে কর্মী সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে লেবার পার্টি। ফলে এই প্রস্তাব এখনই আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলটির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকলে মূলধারার দলগুলোও অভিবাসন ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অভিবাসীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
এদিকে, লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, বৈধভাবে এসে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে এ ধরনের রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়।