নির্বাচনে অন্যতম আলোচিত নাম লুৎফুর রহমান। সিলেটের এই আইনজীবী ইতোমধ্যে তিনবার টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। লেবার পার্টির রাজনীতি দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে তিনি নিজের দল ‘অ্যাসপায়ার পার্টি’ থেকে লড়ছেন। তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও শক্তিশালী সংগঠন তাকে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
লেবার পার্টির প্রার্থী সিরাজুল ইসলামও অভিজ্ঞতায় কম নন। তিন দশকের বেশি সময় ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় তিনি। যুক্তরাজ্যে এসে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ২০০১ সাল থেকে টানা সাতবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে মূলধারার রাজনীতিতে তার অবস্থানও শক্ত।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামি আলী। সুনামগঞ্জের এই ব্যারিস্টার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আইন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও পেশাগত দক্ষতার কারণে ভোটারদের একাংশের সমর্থন পাচ্ছেন তিনি।
অন্যদিকে, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে লড়ছেন মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান। পেশায় টেলিকম নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার ও উদ্যোক্তা এই প্রার্থী ২০১৭ সালে রাজনীতিতে যোগ দেন। প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন ও নতুন ধারার নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন তিনি।
বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত টাওয়ার হ্যামলেটসে এই নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং কমিউনিটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। স্থানীয় ভোটারদের মতে, প্রার্থীদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আবাসন সংকট, নিরাপত্তা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন—এসব ইস্যুই নির্ধারণ করবে ভোটের ফলাফল।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রচারণার উত্তাপ। এখন দেখার বিষয়, ৭ মে শেষ পর্যন্ত টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়রের চেয়ার কার দখলে যায়।