কোভিড-পরবর্তী সময়ে ড্রাইভিং টেস্টের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার তালিকা তৈরি হয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ যেখানে অপেক্ষার সময় বেড়ে দাঁড়ায় ২২ সপ্তাহে, সেখানে ২০২০ সালে তা ছিল মাত্র ৫ সপ্তাহ। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু চক্র ‘বট’ ব্যবহার করে দ্রুত স্লট বুক করে পরে তা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছিল। ৬২ পাউন্ডের টেস্ট স্লট ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগও উঠে আসে। এই কালোবাজারি ঠেকাতেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ডিভিএসএ।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে শিক্ষানবিশ চালকদের নিজ নিজ ড্রাইভিং টেস্ট নিজেরাই বুক করতে হবে। কোনো ড্রাইভিং ইন্সট্রাক্টর আর শিক্ষার্থীর হয়ে বুকিং বা ব্যবস্থাপনা করতে পারবেন না। অন্যের হয়ে বুকিং করাকে আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।
এ ছাড়া টেস্টের তারিখ বা সেন্টার পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা আনা হয়েছে। চলতি বছরের ৩১ মার্চ থেকে পরিবর্তনের সুযোগ ৬ বার থেকে কমিয়ে ২ বার করা হয়েছে। এর বেশি পরিবর্তন করতে চাইলে আগের বুকিং বাতিল করে নতুন করে ফি দিয়ে বুক করতে হবে।
আগামী ৯ জুন থেকে সেন্টার পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। পরীক্ষার্থীরা শুধুমাত্র নিকটবর্তী তিনটি সেন্টারের মধ্যেই স্লট পরিবর্তন করতে পারবেন।
নতুন ব্যবস্থায় বুকিংয়ের আগে ইন্সট্রাক্টরের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রস্তুতি নিশ্চিত করা এবং বুকিংয়ের সময় তার রেফারেন্স নম্বর দেওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে ডিভিএসএ জানিয়েছে, প্রয়োজনে শিক্ষার্থীরা বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের প্রযুক্তিগত সহায়তা নিতে পারবেন। কিন্তু বুকিংয়ের সময় পরীক্ষার্থীকে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে এবং প্রক্রিয়াটি নিজে সম্পন্ন করার চেষ্টা করতে হবে।
এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ অনেকেই। তাদের মতে, এতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কম খরচে সহজে টেস্ট স্লট পাওয়া যাবে।
ডিভিএসএর আশা, নতুন এই উদ্যোগ স্লট জালিয়াতি কমাবে এবং প্রকৃত শিক্ষার্থীরা দ্রুত ও ন্যায্য উপায়ে ড্রাইভিং টেস্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।