তিনি আরও বলেন,আরেকটা জিনিস বাংলাদেশ ভারতের ব্যাপারে কিছু কিছু রিজার্ভেশন আছে, বিশেষ করে পতিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে তারা আশ্রয় দিয়েছেন এবং সেখানে বসে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছেন। যেটা সৎ প্রতিবেশী সুলভ আচরণ বলে আমরা মনে করিনা।
ভারতের সাথে আমাদের সুসম্পর্ক রাখা দরকার কিন্তু তারাও যে সুসম্পর্ক চায় তেমন কিছু দেখা যায়না,
কেবল দুদেশের কুটনৈতিক পর্যায়ে কথাবার্তা চালাচালি হচ্ছে। আমরা আশা করবো ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে সৎ প্রতিবেশীসুলভ সমমর্যাদার ভিক্তিতে আমাদের সম্পর্ক আমরা চাই। বাংলাদেশ সকল রাষ্ট্রের সাথে বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করতে চায়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলায় ৪ দিনের সফরের শেষ দিনে ঢাকায় ফেরার পথে ভোলা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
স্পিকার বলেন,তারেক রহমান ব্যাপক জনপ্রিয়তা নিয়ে এবং নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছন। এ সরকারের বয়স মাত্র সাতমাস। গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের দু:শাসনের ফল দেশের প্রতিটি বিভাগে,স্তরে ধস নেমেছে,হত্যা গুম খুন মানিলন্ডারিং অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে,এবং দেশকে প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে বিগত সরকারের অবৈধ কর্মকাণ্ডে। এ পরিস্থিতি থেকে উন্নয়ন করতে অনেক সময় লাগবে। সাত মাস এটার জন্য খুবই অল্প সময়,তবুও শুরু করেছে।
সংস্কার প্রসঙ্গে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন,আমার মনে হয় সংস্কার পর্ব ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। প্রধানত আইনকানুনে অনেক সংস্কার আনতে হবে। যেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাপ আলোচনা চলছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ব্যাপারে কিছুটা অসুবিধা দেখা দিচ্ছে রাজনৈতিক দল সমূহের মধ্যে এখনও তারা একমত হতে পারেনি কিভাবে তারা কিভাবে সংস্কার করা যাবে।
তিনি বলেন,আপনারা জানেন এখন আমি একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবেই কথা বলছি,বিএনপির স্থায়ী কমিটির পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। নিরপেক্ষ ভাবে সংসদ পরিচালনার চেষ্টা করছি। আমি আশা করছি শিগগিরই সরকারি দল বিএনপি ও বিরোধীদল যদি একটা সমোঝোতায় আসে তাহলে বিগত ১৬-১৭ বছরের দু:শাসন ও বঞ্চনা থেকে জনগণ মুক্তি পেতে পারে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে সরকার এবং বিরোধীদল উভয়ই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যখন এ সংস্কার কাজটি শুরু হবে এবং শেষ হবে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে তখন আপনারা কাঙ্খিত ফল দেখতে পাবেন। এখনও মনে হচ্ছে যেন জনগণ যা আশা করে তা এখনও পায়নি,তার কারণ সংস্কার প্রক্রিয়া আইনগত ভাবে এখনও শুরু হয়নি। আশা করি সংসদের আগামী অধিবেশনে সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে সরকার এবং বিরোধী দল একমত হলে তাহলে দ্রুত যদি সংস্কার করতে পারি আইনে যে সংস্কার করে পরিবর্তন দরকার তা যদি আনতে পারি তাহলে এই যে গত ১৬ বছরের দু:শাসন থেকে জনগণ মুক্তি পাবে। সুতরাং নিরাশ হওয়ার কিছু নেই।
স্পিকার বলেন,একটা জিনিস আপনারা লক্ষ্য করেছেন বাকস্বাধীনতা ফিরে পেয়েছে এদেশের জনগণ। আওয়ামী লীগ আমলে সত্যি কথা বলা সম্ভব ছিল না। এবং সত্যি কথা বলার কারনে অনেককে ক্রসফায়ারে জীবন দিতে হয়েছে গুম হয়েছে। বিএনপির সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীসহ বহু মানুষ গুম হয়েছে। অনেকেই নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে,দেশে এখন আর সেই পরিবেশ নেই,দিলখুলে সরকারের সমালোচনা করা যায়। ৭ মাস যথেষ্ট সময় নয় দু:শাসনের ফল সেগুলো নিরাময় করার জন্য।
বিরোধী দলের লংমার্চ প্রসঙ্গে তিনি বলেন,একটা স্থিতিশীল পরিবেশের প্রয়োজন। বিরোধী দলকেও ধৈর্য ধরতে হবে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যদি সুন্দর বোঝাপড়া থাকে তাহলে দেশ উন্নয়নের পথে যেতে পারবে। কিন্তু একবছর না যেতেই যদি ক্ষমতার লোভ কাউকে পেয়ে বসে বা ক্ষমতা আরহনের জন্য কেউ যদি পরিস্থিতি বিনষ্ট করতে চায় তাহলে হয়তো দেশবাসীর কপালে দু:খ আছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন।
ভোলার জেলা প্রশাসক ডা.শামীম রহমান,পুলিশ সুপার মো.শহিদুল্লাহ কাওছার,ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর প্রমুখ।