শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় ও পাহাড়তলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের সুযোগ নিয়ে এবং বাসার ভেতরের একটি গোপন সুড়ঙ্গপথ ব্যবহার করে পরিবারের সহযোগিতায় পালিয়ে গেছেন ওই সন্ত্রাসী।
হামলাকারীদের ছোড়া ইটপাটকেল ও ককটেলসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও তার বডিগার্ডসহ পুলিশের অন্তত ছয় সদস্য আহত হয়েছেন।
খুলশী থানার ওয়্যারলেস কলোনির মোহাম্মদ জাবেদের ছেলে ওয়াকিল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি পাহাড়তলী ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মিজানুর রহমানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে মারধর এবং কলেজের অধ্যক্ষকে ভিডিও কলে রেখে নির্যাতনের একটি ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই নম্বর আসামি ওয়াকিল হোসেনকে ধরতেই শুক্রবার ভোররাত সাড়ে চারটার দিকে খুলশীর ওয়্যারলেস মোড় ও পাহাড়তলী এলাকায় অভিযানে নামে পুলিশ।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছামাত্র ওয়াকিল হোসেনের অনুসারীরা রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এরপর পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, বোতল এবং ককটেলসদৃশ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয়। সন্ত্রাসীদের হামলায় খুলশী থানার ওসির সরকারি গাড়িটি ভাঙচুর ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ৩ থেকে ৪টি সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এই হামলায় ওসির হাতসহ ৫ থেকে ৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পরে পুলিশের একাধিক দল ওয়্যারলেস এলাকার প্রতিটি গলি ও ওয়াকিলের বাসভবনে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। এ সময় তার বাসার ভেতরে একটি গোপন সুড়ঙ্গ ও পালানোর পথের সন্ধান মেলে। ওই সুড়ঙ্গপথ ব্যবহার করে এবং পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় অভিযানের আগেই সটকে পড়েন তিনি। তবে অভিযানের সময় তিনি নিজে মোবাইল ফোনে ও ভিডিও কলে পুলিশকে নানা ধরনের হুমকি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ প্রদর্শন করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ বিষয়ে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, ‘কলেজশিক্ষক পেটানোর ঘটনায় নিয়মিত মামলা হওয়ার পর আসামির বিরুদ্ধে থাকা অস্ত্র মামলার ওয়ারেন্ট ও অন্যান্য অপরাধের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযানে যায়। কিন্তু আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে।’
তিনি জানান, হামলায় তার নিজের হাতসহ ৫-৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং ওয়াকিল হোসেনসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।