পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকালে বগুড়া শহরের জানেসাবা হাউজিং এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় যান রবিউল ইসলাম। সেখানেই গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। সে সময় বাসার পুরুষ সদস্য বাইরে ছিলেন। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পারিবারিক সম্পর্কের সূত্র ধরে এক নারীর সঙ্গে রবিউল ইসলামের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক টানাপোড়েন চলছিল। ঘটনার দিন কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তিনি পাশের একটি কক্ষে গিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত রোববার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার হোসেন জানান, রবিউল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ বগুড়ায় আনা হবে।
সহকর্মীদের কাছে দায়িত্বশীল ও শান্ত স্বভাবের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত রবিউল ইসলামের এমন পরিণতি জেলা পুলিশে শোকের ছায়া ফেলেছে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা, মানসিক চাপ ও আবেগের সংঘাত কীভাবে একটি জীবনকে নিঃশেষ করে দিতে পারে—এই ঘটনাকে তারই এক মর্মান্তিক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকে।