বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জ জাহানাবাদ গ্রামে হিরোর মা হাফিজা বেগমের (৬২) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাকে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাফিজা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মায়ের জানাজার আগে উপস্থিত স্বজন ও এলাকাবাসীর সামনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মাশরাফি হিরো। তিনি বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত জানি না আমার মা কখন মারা গেছে। আমি হয়তো তাকে দেখতে পারলাম, কিন্তু সে তো আমাকে দেখতে পারল না।’
কথা বলতে গিয়ে বারবার আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন তিনি। বলেন, ‘সন্তান মাকে ভালোবাসুক আর না ভালোবাসুক, মা কিন্তু সন্তানকে ঠিকই ভালোবাসে।’
নিজের আক্ষেপের কথা জানিয়ে হিরো বলেন, ‘আমি আমার দায়িত্ব হয়তো সঠিকভাবে পালন করতে পারিনি। এজন্য আমি আমার মায়ের কাছে ক্ষমাও চাইতে পারলাম না।’
মায়ের দীর্ঘ অসুস্থতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তার মা অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। ওষুধ ও হাসপাতাল করতে করতে তার জীবন শেষ হয়ে গেছে। অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে তিনি জীবন পার করেছেন বলেও উল্লেখ করেন হিরো।
মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে উপস্থিতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের কথাবার্তায় আপনারা যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে দয়া করে নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন।’ একই সঙ্গে তার মায়ের কাছে কারও আর্থিক পাওনা থাকলে পরিবারকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি। পাওনা পরিশোধের চেষ্টা করবেন বলেও জানান।
স্থানীয়রা জানান, মাশরাফি হিরোর মা মারা যাওয়ার পর তার প্যারোলে মুক্তির ব্যবস্থা করা হয়। পরে পুলিশি পাহারায় তাকে গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি মায়ের জানাজায় অংশ নেন।
বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, মায়ের মৃত্যুর কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে সিরাজগঞ্জ কারাগার থেকে মাশরাফি হিরোকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। জানাজা শেষে তাকে পুনরায় সিরাজগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মাশরাফি হিরো প্রায় ১৬ মাস ধরে কারাবন্দি রয়েছেন। মায়ের জানাজায় কয়েক ঘণ্টার জন্য কারাগারের বাইরে এলেও শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরতে হয়েছে সেই কারাগারেই—যেখান থেকে মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়েছিলেন তিনি।