শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার এরুলিয়া বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার আটাপাড়া এলাকার মৃত মোসলেম উদ্দিন মোল্লার ছেলে বাবুল হাসান (৫০) ও তার স্ত্রী জেসমিন বিবি (৪৫)। বাবুল হাসান পেশায় একজন স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাবুল হাসান তার স্ত্রী এবং সাত বছর বয়সী নাতি জুলকার নাঈনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে নওগাঁর দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই বাবুল হাসানের মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জেসমিন বিবি ও শিশু জুলকার নাঈনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জেসমিন বিবিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা মিরাজুল মণ্ডল বলেন, চালকের অদক্ষতা ও অসতর্কতার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলটি রাস্তার বাম পাশে সরে গিয়ে সংঘর্ষ এড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত রক্ষা পায়নি।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকারটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
একই দিনে একই মহাসড়কে দুই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শুক্রবার ভোরে এরুলিয়া এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাস রাস্তার পাশে অবস্থানরত শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে সাতজন নিহত হন এবং একাধিক ব্যক্তি আহত হন। সেই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর বিকেলে একই মহাসড়কের অদূরে আরেকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এক দিনের ব্যবধানে একই সড়কে পরপর দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মোট নয়জনের প্রাণহানি ঘটায় সড়কটির নিরাপত্তা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।