মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যৌথভাবে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দই উৎপাদন ও বিক্রি, পণ্যে লেবেল ব্যবহার না করা এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকার অভিযোগে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন শেরপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অভিযানে ধুনট মোড় এলাকার হোটেল আখিমনি ও মা-মনি হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। একই এলাকায় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন শম্পা দধি ভান্ডারকে ১০ হাজার, চৈতি দধি ভান্ডারকে ২৫ হাজার এবং সাউদিয়া ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রডাক্টসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বিএসটিআই সূত্র জানায়, অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দই তৈরির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত না করার বিষয়টি নজরে আসে। পাশাপাশি বিএসটিআইয়ের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই এবং পণ্যে যথাযথ লেবেল ব্যবহার না করে দই বাজারজাত করার প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে পাঁচটি মামলা করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।
অভিযান শেষে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকদের শুধু জরিমানা দিয়েই দায়মুক্তি না পেয়ে আগামী সাত দিনের মধ্যে চিহ্নিত অনিয়ম সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযানে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার (সিএম) মো. শাহানূর হোসেন খান। সার্বিক সহযোগিতা করেন বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক (সিএম) মো. দেলোয়ার হোসেন।
প্রশাসন ও বিএসটিআইয়ের এ অভিযানে মূলত একটি বিষয়ই সামনে এসেছে—খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে শুধু ব্যবসা পরিচালনা করলেই হবে না, নিশ্চিত করতে হবে স্বাস্থ্যবিধি, মাননিয়ন্ত্রণ, বৈধ অনুমোদন ও ভোক্তার তথ্য জানার অধিকার। অন্যথায় জনপ্রিয় খাদ্যপণ্যও পরিণত হতে পারে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিতে।