বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগর কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে নেতাকর্মীরা একটি মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে শিল্প, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, প্রকৃত ব্যবহার ছাড়াই ভূতুড়ে বিল আদায় এবং বাজারে নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
মিছিলপূর্ব সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতের বগুড়া মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক। এছাড়া বক্তব্য রাখেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বগুড়া মহানগর সভাপতি আজগর আলী এবং শাজাহানপুর উপজেলা জামায়াত নেতা শহিদুল ইসলাম।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মানছুর রহমান, মহানগর আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, সেক্রেটারি অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক, এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এমএসএ মাহমুদ, খেলাফত মজলিশের নেতা মাওলানা তৌহিদুল ইসলাম, এলডিপির জেলা সেক্রেটারি আনিছুর রহমানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশে বটতলা চত্বরে স্মারকলিপির মূল অংশ পাঠ করেন বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল।
স্মারকলিপিতে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— দ্রুত গ্যাস সংকট নিরসন করে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, অঘোষিত ও অযৌক্তিক লোডশেডিং বন্ধ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূল্য নির্ধারণ, ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিল বন্ধ করে প্রকৃত মিটার রিডিং অনুযায়ী বিল প্রদান এবং গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বাজার তদারকি জোরদার ও সিন্ডিকেট-মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনদুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত কার্যকর নির্দেশনা প্রদান।
নেতারা বলেন, জনস্বার্থে উত্থাপিত এসব দাবির দ্রুত বাস্তবায়ন হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে এবং সেবা খাতে জনগণের আস্থা ফিরে আসবে। বিষয়টি দলীয় নেতা-কর্মীদের নজরে এলে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের আইনি ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এখন মামলার পরবর্তী তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।