মঙ্গলবার (২ জুন) ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার উজ্জ্বলপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী নুরজাহান (৫০), তার ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফ ইসলাম (২৪) ও রাকিব (১৮), মেয়ে একই গ্রামের ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী আয়শা বেগম (২৮) এবং চালক জাহিদ (২৫)। আহত হয়েছেন আশরাফুল হোসেন (৭) ও তাছফিয়া (৩)।
জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে জীবিকার তাগিদে মালয়েশিয়ায় যান ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গি গ্রামের আরিফুল ইসলাম। দীর্ঘদিন পর তিনি দেশে ফেরেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাইভেটকারে করে তাকে নিতে যান তার ভাই রাকিব হোসেন, মা নুরজাহান বেগম, বোন আয়েশা বেগম এবং ভাগ্নে আশরাফুল ও ভাগ্নি তাছফিয়া।
বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার পথে ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের মালিগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিকল গ্যাস সিলিন্ডারবোঝাই ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয় প্রাইভেটকারটি। এতে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে রাকিব, নুরজাহান বেগম, আয়েশা বেগম এবং প্রাইভেট কারের চালক জাহিদকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। গুরুতর আহত আরিফুল ইসলাম, আশরাফুল ও তাছফিয়াকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালে নেয়ার পথে আরিফুল ইসলামের মৃত্যু হয়। আহত দুই শিশু বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
নিহতদের স্বজন ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছিল আমার বড় শ্যালক। তাকে আনতে আমার স্ত্রী, ছোট শ্যালক, শাশুড়ি এবং সন্তানরা বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার পথেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। যে দিনটি আনন্দের হওয়ার কথা ছিল, সেটিই পরিণত হয়েছে শোকের দিনে।’প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রাইভেট কারটির গতি অনেক বেশি ছিল। এছাড়া চালকের চোখে ঘুমঘুম ভাব থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। পরে প্রাইভেটকারের যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় গাড়িটি ট্রাকের পেছনে আটকে ছিল। পরে প্রাইভেট কারটি আংশিক কেটে চালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শিবচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। আরিফুল ইসলামের মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেটকার ও ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের স্বজনরা এসে পৌঁছেছেন এবং মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।