নিহত সাজেদুল হক রাঙ্গামাটি সদর পুলিশ ফাঁড়িতে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি তবলছড়ি পোস্ট অফিস কলোনির একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে স্ত্রী সাজেদার সঙ্গে সাজেদুল হকের তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে নিজের কক্ষের দরজা বন্ধ করে দেন। পরে দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে এবং বারবার ডাকাডাকির পরও দরজা না খোলায় তাঁর স্ত্রী আতঙ্কিত হয়ে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে রাত পৌনে ১টার দিকে রাঙ্গামাটি কোতোয়ালি থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় সাজেদুল হকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরপরই রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব-পিপিএম। এ সময় তাঁর সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন।
রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, “পারিবারিক কলহের জের ধরেই তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর সহকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।