মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকালে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের দিঘলটারী বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদেরকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়।
আটককৃতরা হলেন - ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার গিতালদহ (দরিবাস) গ্রামের মোঃ হামেদ আলীর স্ত্রী মোছাঃ হোসনেয়ারা বেগম (৪৬), তার ছেলে মোঃ জাহিদ হোসেন (২৭) এবং একই এলাকার শ্রী রাজেশ্বর বর্মনের ছেলে শ্রী অর্জুন বর্মন (৩০)।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ দিঘলটারী বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৯২৬ হতে প্রায় ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দিঘলটারী নামক স্থানে মোছাঃ হোসনেয়ারা বেগম অবৈধভাবে প্রবেশ করেন। তিনি বাংলাদেশে গরু বিক্রির উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। এসময় দিঘলটারী বিওপি’র একটি টহলদল তাকে আটক করে। তার কাছ থেকে ১টি গাভী ও ২টি বকনা গরুসহ মোট ৩টি গরু জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে ওই দিন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের দিকে হোসনেয়ারা বেগমকে খুঁজতে তার ছেলে জাহিদ হোসেন এবং স্থানীয় আরেক বাসিন্দা শ্রী অর্জুন বর্মন অবৈধভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। এসময় স্থানীয় বাংলাদেশিরা তাদের আটক করে বিজিবি'র কাছে হস্তান্তর করে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নূর হোসেন জানান, সকালে এক নারী তিনটি গরু নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে পড়লে বিজিবি তাকে আটক করে। পরে আরও দুই ভারতীয় নাগরিক তাদের দেশের রাজনৈতিক কারণে টিকতে না পেরে বাংলাদেশে ঢুকে পড়লে স্থানীয়রা তাদের আটক করে বিজিবির হাতে তুলে দেয়।
দুর্গাপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোস্তাকিন আলী বলেন, সকাল ১০টায় আমাকে দিঘলটারী ক্যাম্পে ডাকা হয়। আটককৃত নারীর দাবি, তিনি ভুলবশত বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিলেন। অন্যদিকে আটককৃত দুই পুরুষের দাবি, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাদের এলাকায় মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর তারা ভীতির মধ্যে ছিলেন। বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের সদস্য ও পুলিশের ধাওয়া খেয়ে জীবনের নিরাপত্তায় তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন।
পরে এ ঘটনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে সীমান্ত পিলার ৯২৬-এর নিকট বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ১৫ বিজিবি/দিঘলটারী বিওপি’র জেসিও-১০৭২৭ নায়েব সুবেদার সনাতন এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৩/দরিবাস বিএসএফ ক্যাম্পের কমান্ডার এসআই মানজিৎ সিং। বৈঠক শেষে বিজিবি আটককৃত তিন ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।
সার্বিক বিষয়ে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, এক নারী এবং দুজন পুরুষ ভুল করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিল। আমরা তাদের আটক করার পর বিএসএফকে বিষয়টি জানাই। বিএসএফ তাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকার করে। এরপর আমরা ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের মাধ্যমে আটককৃতদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেছি।