জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগ দেন সোলায়মান শেখ। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মাদক, সন্ত্রাস, নাশকতা, জুয়া, ইভটিজিং, নারী নির্যাতন, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। একই সঙ্গে থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেন।
চলতি বছর অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর দেশের মধ্যে প্রথম দিকের একটি মামলা জীবননগর থানায় দায়ের হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয় থানা পুলিশ। মাদক নিয়ন্ত্রণে ওসি সোলায়মান শেখের নেতৃত্বে গত কয়েক মাসে জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে বিপুলসংখ্যক মাদক কারবারি ও মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মাদকের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানের কারণে অপরাধীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। ওসি সোলায়মান শেখকে প্রায়ই রাতের বেলায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশি টহল দিতে দেখা যায়। জীবননগর পৌর শহরসহ বিভিন্ন ক্রাইম জোন হিসেবে চিহ্নিত এলাকায় নিয়মিত টহলের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি।
এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ও পুলিশের প্রতি আস্থা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। থানায় যোগদানের পর সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে বিভিন্ন এলাকার সামাজিক সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের উদ্যোগ নেন ওসি সোলায়মান শেখ। সামাজিক বিরোধ ও পারিবারিক কলহসহ বিভিন্ন সমস্যা যাতে বড় ধরনের সংঘাতে রূপ না নেয়, সে বিষয়েও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তিনি।
এছাড়া বিট পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শুনে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন থানা পুলিশের সদস্যরা। থানায় সেবা নিতে আসা আব্দুল গফুর বলেন, ‘এত সুন্দর মন-মানসিকতার ওসি এর আগে আমরা পাইনি। তাকে কখনো কখনো মনে হয় পুলিশের একজন কর্মকর্তা নন, আমাদের পরিবারেরই একজন সদস্য। তবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থানও আমরা দেখেছি।’
আরেক সেবাপ্রার্থী ফাতেমা খাতুন বলেন, ‘একসময় অনেকের ধারণা ছিল, থানায় গেলে হয়রানি বা ঘুষের শিকার হতে হবে। কিন্তু এখন সেই ধারণা অনেকটাই বদলেছে। থানাকে আমরা মানুষের সহায়তার জায়গা হিসেবে দেখতে চাই। বর্তমান ওসি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।’ এদিকে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওসি সোলাইমান শেখকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কারণে একটি মহল তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও বানোয়াট তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের মনোবলকে ভেঙে দেওয়ার খেলায় মেতে উঠেছে কিছু কচুক্রী মহল।
স্থানীয় বাসিন্দা আফসার আলী বলেন, ‘আমার জানা মতে, জীবননগর থানার ওসি একজন সৎ ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। এ কারণে কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে পারে। বিশেষ করে তিনি এখন মাদক কারবারিদের প্রধান শত্রু, তাকে দমন করা গেলে অপরাধীরা মাদকসহ অন্যান্য নাশকতা কর্মকাণ্ড অবাধে করতে পারবে।
এছাড়াও তিনি বলেন আমরা চাই ওসির বিরুদ্ধে যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদেরকে সনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে এসে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান শেখ বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি আমার পেশাগত দায়িত্ব পালন করছি। মাদক, নাশকতা ও অপরাধ দমনে জীবননগর থানা পুলিশ অতীতেও কঠোর ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদক ও অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।জীবননগরবাসীকে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।’