স্থানীয় সূত্র ও জেলেদের স্বজনদের দাবি, রোববার (৩১ মে) রাত ১১টার দিকে সুন্দরবনের মালঞ্চ নদীর চালতেবেড়ে খাল ও সুবদে খাল এলাকায় থাকা কয়েকটি মাছ ধরার নৌকা থেকে ‘ডন বাহিনী’ পরিচয়ে আসা বনদস্যুরা ছয় জেলেকে তুলে নিয়ে যায়।
অপহৃতরা হলেন- শ্যামনগর উপজেলার দক্ষিণ কদমতলা গ্রামের ইয়াসিন খাঁ, আলমগীর খাঁ, হরিনগর গ্রামের আলামিন মোল্লা, শাহজাহান গাজী, কামরুল গাজী এবং খুলনার কয়রা উপজেলার শহিদুল ইসলাম।
স্বজনদের অভিযোগ, অপহরণের পর বনদস্যুরা প্রথমে মাথাপিছু ৩০ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করে। পরে ফোন করে মোট দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে অপহৃতদের হত্যা করে মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
আহত জেলে ইসমাইল খাঁ জানান, অপহরণের সময় তার দুই ভাইকে তুলে নেওয়া হলে তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বনদস্যুরা নৌকার বৈঠা দিয়ে তাকে মারধর করে। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি আহত হন। চিকিৎসকরা তার মাথায় সাতটি সেলাই দিয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মুক্তিপণ দাবির একটি ফোনালাপ তাদের কাছে রয়েছে। সেখানে টাকা না দিলে অপহৃতদের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা দেওয়ার ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।
জানা গেছে, অপহৃত জেলেরা গত ২৫ মে বৈধ পাস নিয়ে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে প্রবেশ করেছিলেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ৩১ মে রাতের মধ্যে তাদের ফিরে আসার কথা ছিল।
সুন্দরবনের কদমতলা স্টেশনের কর্মকর্তা মনিরুল করিম বলেন, অপহরণের বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে, অপহৃতদের মধ্যে কয়েকজন তার স্টেশন থেকে পাস নিয়েছিলেন।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপহৃতদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত জেলেদের উদ্ধার এবং বনদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।