উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া এলাকায় নুরুস সামাদ বুলবুল নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গত ২৩ মে এ চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জানান, সবশেষ ১৬ মে তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। পরে ২৩ মে ফিরে এসে ঘরের ভেন্টিলেটর ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। তার ভাষ্য, চোরেরা ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে দরজার হ্যাজবোল খুলে পুরো বাড়ি তছনছ করে।
চোরেরা ছয়টি ফ্যান, ফ্রিজের কম্প্রেসার, গ্যাসের চুলা ও বোতল, সিলভারের হাঁড়িপাতিল, পাঁচ হাজার টাকা, ১১টি ট্যাপ কল, কম্বল, কাঁথা ও বালিশ নিয়ে যায়। এছাড়া ঘরের দুটি আলমিরা, শোকেসসহ বিভিন্ন ফার্নিচারও খুলে নেওয়া হয়েছে বলে জানান বাড়ির মালিক।
ভুক্তভোগী নুরুসসামাদ বুলবুল বলেন, গত ২৩ মে রাত আনুমানিক ৯টা থেকে সোয়া ৯টার মধ্যে ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে বাড়িতে ফিরি। বাড়ির মূল ফটকের তালা খুলে ভেতরে ঢুকতে গেলে দেখতে পাই দরজাটি ভেতর থেকে আটকানো। পরে আমার এক ভাই গাছ বেয়ে ছাদে উঠে দরজা খুলে ভেতর থেকে দরজা খুলে দেয়। ভেতরে ঢুকে দেখতে পাই ঘরের তালা ও লক ভাঙা। পরে একে একে বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে বুঝতে পারি, বাড়িতে চুরি হয়েছে।
তিনি জানান, তার দুইটি আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, রুপার জিনিসপত্র, মূল্যবান কাগজপত্র ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে গেছে চোরেরা। বাড়ির ছয়টি সিলিং ফ্যান খুলে নেওয়া হয়েছে। এমনকি ফ্রিজের কম্প্রেসার ও তামার যন্ত্রাংশও খুলে নিয়ে গেছে তারা। এছাড়া তিনটি বাথরুমের কল, শাওয়ার, রান্নাঘরের ফিটিংস, বড় ডেগ, বালতি, কম্বল ও কাপড়চোপড়সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসপত্র চুরি হয়েছে।
নুরুসসামাদ বুলবুলের ধারণা, পশ্চিম পাশের একটি ফ্যান খুলে জানালার গ্রিলের নাট খুলে ঘরে প্রবেশ করে চোরেরা। পরে ভেতর থেকে দরজা খুলে বাড়ির অন্যান্য কক্ষে ঢুকে মালামাল নিয়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, চুরির ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ধামরাই থানাসহ পুলিশের একাধিক কর্মকর্তাকে ফোন করা হলেও রাতে ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করার মতো কোনো তৎপরতা তিনি দেখেননি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চুরির ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।