সম্প্রতি বাজেট সংক্রান্ত এক নথির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থার অধীনে উদ্যোক্তারা একটি মাত্র অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আবেদন জমা, তথ্য যাচাই, অনুমোদন ও লাইসেন্স গ্রহণ, ছাড়পত্র সংগ্রহ এবং আবেদনের অগ্রগতি ট্র্যাক করতে পারবেন।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ব্যবসা শুরু ও পরিচালনায় সময়, খরচ, অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানো। একই সঙ্গে সরকারি সেবাকে আরও সহজ, দ্রুত, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করে তোলা।
সময়সীমা ও অটোমেটিক অনুমোদন
সরকার প্রতিটি সেবা ও লাইসেন্স দেওয়ার জন্য সুনির্দিষ্ট ‘সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট’ (এসএলএ) বা সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা করেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন সেবা প্রদানকারী সংস্থা তাদের মতামত, অনাপত্তিপত্র বা ছাড়পত্র দিতে ব্যর্থ হলে, আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা ‘ডিমিড অ্যাপ্রুভাল’ হিসেবে অনুমোদিত বলে গণ্য হতে পারে।
এই সংস্কার কর্মসূচির মধ্যে থাকছে- ব্যবসা নিবন্ধন, নির্মাণ ও পরিবেশগত ছাড়পত্র, বিনিয়োগ পরবর্তী সেবা, কর ও কাস্টমস সংক্রান্ত বিষয়, বৈদেশিক লেনদেন, ব্যাংকিং সেবা, দীর্ঘমেয়াদি মূলধন বাজারে প্রবেশাধিকার এবং স্থানীয় লাইসেন্সিং।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সাময়িক অনুমোদন
সংস্কারে কর্মসূচিতে নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে অনলাইনে সাময়িক বা ‘প্রভিশনাল’ অনুমোদনের ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে। এর ফলে উদ্যোক্তারা দ্রুত ব্যবসা শুরু করতে পারবেন এবং পরবর্তী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত লাইসেন্স ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।
কোম্পানির নাম ছাড়পত্র, নিবন্ধনের আবেদন, ফি প্রদান এবং সার্টিফিকেট প্রদান- সবকিছুই হবে অনলাইনে। নাম চূড়ান্ত হলে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোম্পানির নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।
বিদেশিদের ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট সহজীকরণ
বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ পেশাদারদের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ইস্যুর সময়সীমা ৭ দিনে এবং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ভিসা প্রসেসিং ১০ দিনে নামিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি, যোগ্য বিনিয়োগকারী ও প্রকল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য ৫ বছর মেয়াদি ‘মাল্টিপল এন্ট্রি’ ভিসা দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষায়িত সহায়তা কেন্দ্র ও প্লাগ অ্যান্ড প্লে সুবিধা
বিশাল ও কৌশলগত বৈদেশিক বিনিয়োগ দ্রুত বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনে (বিসিক) ডেডিকেটেড সাপোর্ট অফিসার ও কেস ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে। ২৪ ঘণ্টা খোলা হেল্পডেস্ক ও অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা চালু থাকবে।
অন্যদিকে, নির্ধারিত শিল্প ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে চালু হবে ‘প্লাগ অ্যান্ড প্লে’শিল্প সুবিধা। যেখানে জমি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, সড়ক যোগাযোগ এবং প্রাথমিক অনুমোদন আগে থেকেই প্রস্তুত থাকবে, যাতে উদ্যোক্তারা কারখানা স্থাপন করেই দ্রুত উৎপাদনে যেতে পারেন।
স্থানীয় ট্রেড লাইসেন্স ও আইনি সুরক্ষা
সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স সুবিধাও এই ডিজিটাল ব্যবস্থার অধীনে আনা হবে। আবেদন থেকে শুরু করে নবায়ন ও ফি প্রদান সবই অনলাইনে সম্পন্ন করা যাবে।
সরকার স্পষ্ট করেছে যে, এই সংস্কার বা নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার অর্থ আইন কিংবা তদারকি তুলে দেওয়া নয়। জনস্বার্থ, পরিবেশ রক্ষা, নিরাপত্তা ও রাজস্ব আদায় সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রাখা হবে। মূলত অযৌক্তিক সময়ক্ষেপণ ও দুর্নীতি বন্ধ করতেই এই ডিজিটালাইজেশন। এর পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বি-পাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি এবং দ্বৈত কর এড়ানো সংক্রান্ত চুক্তিগুলো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।