সম্প্রতি উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ওই আওয়ামী লীগ কর্মীর নাম মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বারবাড়িয়া এলাকার সুমন মিয়ার ছেলে। তিনি বারবাড়িয়া বাজার এলাকায় একটি স মিল পরিচালনা করেন। তবে মারধরের শিকার মাদক ক্রেতা ওই ব্যক্তির কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।
প্রায় এক মিনিটের পিটুনির ভিডিওতে দেখা যায়, মারধরের শিকার ব্যক্তিকে জেরা করছেন ওই আওয়ামী লীগ কর্মী। তার হাতে মাদক সদৃশ্য একটি পাউডার জাতীয় পণ্য দেখা যায়। যা তিনি পারভেজ নামে একজনের কাছ থেকে কিনেছেন বলে জানান। তার বাড়ি সুতিপাড়া বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি মাফ চান ও জানান এই প্রথম এসেছেন সেখানে। একপর্যায়ে তিনি পায়ে ধরে মাফ চাইতে গেলে আওয়ামী লীগ কর্মী আনোয়ারের হাতে থাকা কাঠের টুকরা দিয়ে তাকে পেটাতে শুরু করেন।
স্থানীয়রা জানান, অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি বারবাড়িয়া এলাকার পারভেজ নামে এক মাদক কারবারির কাছ থেকে হেরোইন কেনেন। সেখান থেকে বের হওয়ার পরপরই তাকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তীতে মারধর করা হয়। তবে মাদকসহ মাদকসেবি আটক ও মারধরের ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করা হয়নি বলে জানা যায়।
আওয়ামী লীগ কর্মী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ”আমাদের এলাকায় একটা মাদক বাড়ি আছে, এখানে কেনাবেচা করে। আমি দেখলাম, প্রতিবাদ করলাম।”
মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ”আপনি বারবাড়িয়া স্টেশনে এসে ফোন কইরেন। আমি এলাকার ভাইব্রাদার, ছোট বড় সবাই আমাকে ভালোবাসে। কিনে হাজার হাজার লোক। আপনি আসলে ভালো হয়। চা খাইতে খাইতে গল্প করি ভাই।”
ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, মাদক ক্রেতাকে পেটানোর কোনো তথ্য আমার জানা নেই। এরকম কোনো ঘটনা ঘটলে যারা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকে, কেউ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। এ ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে উভয় বিষয়েই যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা জেলা দায়রা ও জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব বলেন, মাদকসহ কাউকে আটক করা গেলেও তাকে মারধর করার অধিকার কোনো সাধারণ নাগরিকের নেই। বাংলাদেশে অপরাধের অভিযোগে কাউকে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের। তাই কোনো ব্যক্তি মাদক বহনকারীকে ধরে পিটিয়ে থাকলে, সেটি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল এবং নিজেই একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
তিনি বলেন, অপরাধ সংঘটনের সময় কাউকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা যেতে পারে, তবে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে মারধর করা বেআইনি। আঘাতের ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী মারধরকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছায় আঘাত, গুরুতর জখম বা বেআইনি আটকের অভিযোগে মামলা হতে পারে। অন্যদিকে মাদক বহনের অভিযোগও পৃথকভাবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচার হবে।